বিরলে আপন চাচা ও চাচাতো ভাইদের সাথে রাস্তার জায়গা নিয়ে কোন্দলের পূর্ববিরোধে মারামারির ঘটনায় আহত হয়েছে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের যুগ্ম-আহবায়ক তরিকুল ইসলামসহ একই পরিবারের ০৩ জন।
উপজেলার ১০ নং রানীপুকুর ইউনিয়নের আছুটিয়া শালতলা গ্রামের ভূক্তভোগীর পরিবার জানায়, তার বাড়ির দ্বিতীয় গেট এর পাশদিয়ে উভয় পক্ষের বিকল্প চলাচলের রাস্তাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন যাবৎ ঝগড়া বিবাদের সুত্রে ধরে শুক্রবার বিকেলে তরিকুল ইসলাম এর আপন চাচা মিনারুল ইসলাম (৪৫) বিকল্প ঐ চলাচলের রাস্তায় এসে রাস্তা আরও প্রসস্থ করে দিতে হবে বলে চিৎকার করতে থাকে। এক পর্যায়ে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করতে শুরু করলে তরিকুল ইসলাম ও তার পরিবারের লোকজন বের হয়ে এসে প্রতিবাদ করে। এসময় মিনারুল ইসলাম চিৎকার করে তার তিন ছেলে মোঃ আরিফ (২৮), মোঃ আরমান (২৫) ও মোঃ রিফাত (১৯) পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী লাঠিসোঁডা, বাঁশ ও লোহার খন্তি হাতে বের হয়েই এলোপাতাড়ি মারপিট শুরু করে। একপর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা তরিকুল ইসলাম কে বেধড়ক মারপিট করা শুরু করলে তার বাবা মোঃ মুক্তার হোসেন, তার মা সহ পরিবারের লোকজন এগিয়ে আসলে তাদেরকেও মারপিট করে এসময় আশেপাশের লোকজন এসে মর্মান্তিক আহত অবস্থায় তরিকুল ইসলাম ও তার বাবা-মা কে উদ্ধার করে বিরল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে আহতদের অবস্থা গুরুতর দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক আহতদের দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করেন৷ আহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুইজন চিকিৎসা গ্রহণ করে মোটামুটি সুস্থ হলেও স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা তরিকুল ইসলাম আশঙ্কাজনক অবস্থায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ICU) তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।
এ ঘটনায় তরিকুল ইসলাম এর বাবা মুক্তার হোসেন (৫০) বাদী হয়ে মোট ০৪ জনকে আসামী করে বিরল থানায় মামলা দায়ের করেন৷ মামলার বিষয়ে নিশ্চিত করে বিরল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুস ছবুর জানান, এ ঘটনায় এজাহার মূলে তদন্তপূর্বক মামলা গ্রহণ করা হয়েছে, যার মামলা নং- ১৫, তারিখঃ ২১সেপ্টেম্বর-২০২৫ । গত ২১ তারিখে (রবিবার) মামলার ০৪ নং আসামী মোঃ আরমান হোসেন (২৫) কে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
অপরদিকে, স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা তরিকুল ইসলামের চাচা অভিযুক্ত মিনারুল ইসলাম (৪৫) জানায়, এই বিকল্প রাস্তাটি আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি এটা নিয়ে আমাদের পারিবারিকভাবে অনেকদিন যাবৎ কোন্দল চলে আসছে। গত শুক্রবার কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ের মারামারির ঘটনা ঘটেছে। তবে আমার ভাতিজা তরিকুল ইসলাম একটু গুরুতর আহত হলেও আমিসহ আমার পরিবারের লোকজনও আহত হয়েছি এবং হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেছি। তিনি আরও বলেন এটা সম্পূর্ণ আমাদের পারিবারিক বিষয় আমার ভাতিজা সুস্থ হলে আমরা নিজেদের মধ্যে বিষয়টি মিটিয়ে নিবো ।
Please follow and like us:






