১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৬শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • বিশেষ প্রতিবেদন
  • সুরমা নদীতে প্রধান মন্ত্রীর প্রতিশ্রুত সাচনা-জামালগঞ্জ ব্রিজ বাস্তবায়ন হবে কবে? আশায় প্রহর গুনছে জামালগঞ্জবাসী




সুরমা নদীতে প্রধান মন্ত্রীর প্রতিশ্রুত সাচনা-জামালগঞ্জ ব্রিজ বাস্তবায়ন হবে কবে? আশায় প্রহর গুনছে জামালগঞ্জবাসী

প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

আপডেট টাইম : ডিসেম্বর ২৪ ২০১৯, ১৬:৫১ | 833 বার পঠিত | প্রিন্ট / ইপেপার প্রিন্ট / ইপেপার

 “দাবী মোদের একটাই, সুরমা নদীতে সাচনা-জামালগঞ্জ ব্রিজ চাই।” প্রায় দুই লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত জামালগঞ্জ উপজেলাবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবী সুরমা নদীতে জামালগঞ্জ -সাচনাবাজার সংযোগী প্রায় ৮”শ মিটার দীর্ঘ একটা ব্রিজ করে দেওয়া হোক। বিভিন্ন মাধ্যমের দেওয়া তথ্যের এক হিসেবে জানা গেছে, সাচনাবাজার থেকে জামালগঞ্জ সদরে আসতে যেতে খেয়া নৌকা পারাপারে বিভিন্ন পেশাজীবীর কম করে হলেও প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০ হাজার লোকজন যাতায়াত করে থাকেন। সাথে পরিবহন করা হয় মোটর সাইকেল, অন্যান্য মালামালসহ প্রভৃতি। এতে করে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬০ হাজার টাকা থেকে ৭০ হাজার টাকা হিসেবে সারা বছরে কম করে হলেও প্রায় আড়াই কোটি টাকা খেয়া পারাপারে ভাড়া দিয়ে থাকেন এলাকার লোকজন। এই নৌপথে খেয়া পারাপারে  স্কুল, কলেজ,মাদ্রাসার, হাজার হাজার ছাত্র ছাত্রী, হাটুরে লোকজন, সুনামগঞ্জ গামী লোকজন যাতায়াত করে থাকেন। ভরা বর্ষায় অথবা দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সময় এই নদী পারাপারে প্রায়শই অনাকাঙ্ক্ষিত দূর্ঘটনা ঘটে থাকে। সবদিক দিয়েই সাচনাবাজার -জামালগঞ্জের  বহুল জন চলাচলের এই নৌ-খেয়ার ব্যবস্থা দীর্ঘ কালীন জনদূর্ভোগ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। তবে উভয় তীরে ব্রিজ সংযুক্ত হলে এই জনদূর্ভোগ অনেকাংশে কমে যেত। সংগত কারণেই ২০১০ সালের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রতিশ্রুতির পর থেকেই অদ্যাবধি সময়ে এসেও সেই একই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের কাছে উপজেলাবাসীর এই দাবীটি ক্রমশ জোরালো হয়ে উঠেছে। স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্ব দানকারী দল হিসেবে বরাবরই আওয়ামীলীগ সরকারের কাছে জনগণনের প্রত্যাশা বেশি থাকে। অভিশপ্ত ‘৭৫ পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তন পর থেকে দীর্ঘ চড়াই উৎরাই পেড়িয়ে ১৯৯৬ সালে যখন আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আরোহন করে তখন থেকে জনগণের মন মানসে বাস্তবিক কিছু প্রাপ্তির প্রত্যাশা জাগে। হাওর জেলা সুনামগঞ্জের অবহেলিত ভাটীর জনপদ জামালগঞ্জ উপজেলাবাসীও ঐসব চাওয়া-পাওয়া উন্নয়ন প্রত্যাশার দাবীদার হয়ে আছেন বছরের পর বছর ধরে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যখন দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে সরকার গঠন করেন, তখন তিনি ২০১০ সালে সুনামগঞ্জ সফরে এসে তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এক বিশাল জনসভায় ভাষন দানকালে ভাটী অঞ্চলের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে কিছু প্রত্যাশার আলো ছড়িয়ে দিয়ে গিয়েছিলেন। এর মধ্যে অন্যতম একটি ছিল সুরমা নদীর জামালগঞ্জ -সাচনা অংশে একটি যোগাযোগ সংযোগ ব্রিজ নির্মাণ।  সেই থেকে জনমনে আশার প্রদীপ প্রোজ্জ্বল হতে থাকে। যা আজও মিটিমিটি জ্বলছে,  “কবে হবে এই প্রত্যাশিত ব্রিজ”…? প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির দীর্ঘ ৯ বছর অতিক্রান্ত হলেও অদ্যাবধি সুরমা নদীর উপর জামালগঞ্জ -সাচনা ব্রিজ নির্মাণের কোন উদ্যোগ বাস্তবে আলোর মুখ দেখেনি। এখানে উল্লেখ্য যে, হাওর জেলা সুনামগঞ্জের ভাটীর জনপদ জামালগঞ্জ উপজেলা একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে আবির্ভূত হবার অপার সম্ভাবনা রয়েছে। এই অঞ্চলের ছোট- বড় বেশ কয়েকটি হাওরে ধান ও মাছের বিশাল ভান্ডার রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে   জাদুকাটা-ফাজিলপুর পয়েন্টের দেশ বিখ্যাত বালু মহালের ডাম্পিং রিভার স্পট। রয়েছে নদী নির্ভর  জমজমাট বাণিজ্যিক কেন্দ্র ঐতিহ্যবাহী সাচনা বাজার। রয়েছে অমিত সম্ভাবনার কর্মক্ষম জনশক্তির ক্ষুদ্র ও কুঠির শিল্পজাত অসংখ্য উদ্যোক্তা। কিন্তু যোগাযোগ ক্ষেত্রে সময়োপযোগী  উন্নয়ন না হওয়ায় এই অঞ্চল অর্থনৈতিক ভাবে মাথাতোলে দাঁড়াতে পারছে না। জেলা শহর সুনামগঞ্জ থেকে সরাসরি জামালগঞ্জ উপজেলা সদর হয়ে ধর্মপাশা-নেত্রকোণার সাথে সড়্ক যোগাযোগ সংযুক্ত করা গেলে হাওর জনপদের আর্থ সামাজিক অবস্থানই পাল্টে যেত বলে হাওরবাসীর অভিমত। আর যোগাযোগ নির্ভর আর্থ সামাজিক বৈপ্লবিক  উন্নয়নে প্রথম প্রতিবন্ধকতার কারণই হচ্ছে সর্পিল সুরমা নদী দ্বারা অত্র অঞ্চলের মানুষকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা। এক্ষেত্রে সুরমা নদীতে ব্রিজ নির্মাণ এই প্রতিবন্ধকতা ত্বরান্বিত করে দেবে বলে হাওরবাসী প্রত্যাশা করেন। যেহেতু অফুরন্ত সম্ভাবনার  হাওর অঞ্চল কৃষি ও উৎপাদনের সূতিকাগার, সেহেতু হাওরকে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসাটা সরকারের জন্যও কল্যানকর ফলদায়ক হবে। এতদাঞ্চলের হাওরভিত্তিক অর্থনীতি মজবুত হলে সরকারও হাওরের বৈপ্লবিক উন্নয়নের সুফল পেয়ে যাবে। সুগম যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই সুবিশাল হাওরে উৎপাদিত পন্য সঠিক ভাবে উৎপাদন, বিপনন,ও যথাযথ ব্যবহার করা গেলে জাতীয় অর্থনীতিতে এর সুপ্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। এক্ষেত্রে অন্যতম হাওর জনপদ জামালগঞ্জ উপজেলায় সুরমা ব্রিজ বহুলাংশে এই সম্ভাবনাকে একধাপ  এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে জনগণ প্রত্যাশা করেন। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত জামালগঞ্জ -সাচনাবাজার সংযোগ ব্রিজটির অগ্রগতির বিষয়ে  সংশ্লিষ্ট এলজিইডি বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সুরমা নদীতে জামালগঞ্জ -সাচনা ব্রিজ নির্মান প্রকল্পটির প্রাথমিক একটা তথ্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে পাঠানো হয়েছিল। যা বর্তমানে সমীক্ষা পর্যায়ে আছে। সমীক্ষার পরে ডিজাইন হবে, ডিজাইনের পরে টেন্ডার হবে, এরপর ব্রিজ প্রকল্পের কাজটি শুরু হতে পারে। আর এতে দু’প্রান্তের  এপ্রোচসহ ব্রিজটির দৈর্ঘ্য হতে পারে প্রায় ৮’শ মিটার।
এব্যাপারে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ -১ (জামালগঞ্জ -তাহিরপুর -ধর্মপাশা)  আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এপ্রতিবেদককে বলেন, ২০১০ সালে ১০ নভেম্বর মাননীয় প্রধান মন্ত্রী প্রথমেই এই ব্রিজটি নির্মানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু অদ্যাবধি প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি। যদিও আমার নির্বাচনী এলাকায় অনেক কাজ হয়েছে, কিন্তু সবচেয়ে জরুরি এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়নি।  মাঝখানে যদিও এব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, পরে তা বাতিল হয়ে যায়। বর্তমানে সাচনাবাজার-জামালগঞ্জ এবং মান্নানঘাট-গোলকপুর এই দুটি ব্রিজের ব্যাপারে নতুন করে প্রকল্প করার জন্য ইতোমধ্যে সমীক্ষা হয়েছে। এখন প্রকল্পটি অনুমোদনের পর ডিজাইন করা হবে। তিনি আরো বলেন, এই দুটি ব্রিজের জন্য আলাদা প্রকল্প করা লাগছে। এগুলো বাস্তবায়নে এলজিইডির সক্ষমতা নেই বিধায় এর জন্য  ইন্টারন্যাশনাল টেন্ডার করা লাগবে। আমি সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছি যাতে প্রকল্পটি অনুমোদন হয়ে যায়। এই প্রকল্পের ব্যাপারে এলজিইডির চীফ ইঞ্জিনিয়ারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সাথে নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী মহোদয়কে এলাকার জনদূর্ভোগের কথা অবগত করে জরুরি ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত প্রকল্প  বাস্তবায়নের অনুরোধ জানিয়েছি। ব্রিজ দুটি বাস্তবায়নের ব্যাপারে আমি দৃঢ় আশাবাদী। কারণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হলেই আমাদের স্বপ্ন পূরণ হবে ইনশাল্লাহ।
Please follow and like us:

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি- আলহাজ্ব আবদুল গফুর ভূঁইয়া,সাবেক সংসদ সদস্য, প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

 

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৬০১৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত।

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET