বাগেরহাটে ৪টি সংসদীয় আসন পুনর্বহলের দাবিতে জেলার গুরুত্বপূর্ন পয়েন্ট কাটাখালি মোড়ে সর্বাত্মক অবরোধ পালন করেছে বাগেরহাটবাসী। শনিবার (২৪ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি বাগেরহাট জেলা শাখার ব্যানারে এই অবরোধ কর্মসূচি পালন করে তারা। অবরোধ পালন কালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে বাগেরহাট সংসদীয় ৪টি আসন থেকে একটি আসন কর্তন করার প্রতিবাদ এবং চারটি আসন বহালের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে তারা।
ঢাকা – খুলনা, বরিশাল পিরোজপুর – খুলনা, মংলা – খুলনা এবং বাগেরহাট – খুলনা রুটের প্রাণকেন্দ্র জেলার ফকিরহাটের কাটাখালি বাস স্ট্যান্ড। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বাসস্ট্যান্ডে সকাল আটটা থেকেই অবরোধ শুরু হয়। শুরুর পর থেকেই সকল সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। কাটাখালি ছাড়াও বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, জেলা নির্বাচন অফিস, নোয়াপাড়া, সাইনবোর্ড, ফয়লা হাট, দিগরাজ, ফকিরহাট, মংলা, চিতলমারী, বারাকপুর বাজার, খান জাহান আলী মাজার মোড়, বাগেরহাট বাস স্ট্যান্ড এবং মোল্লাহাট সহ অন্তত ১৫/১৬ টি পয়েন্টে সড়কে গাছ চেয়ার বেঞ্চ এবং ট্রাক রেখে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি অবরোধ কর্মসূচি পালন করে। তাছাড়া জেলার যে কয়েকটি খেয়াঘাট রয়েছে সেগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পরীক্ষা দিতে আসা এক শিক্ষার্থী জানান, অবরোধকারীরা কয়েক জায়গায় আমাদের অটো রিক্সার গতিরোধ করে। পরীক্ষা দিতে যাচ্ছি বললেই ছেড়ে দিয়েছে। খুলনা থেকে বাগেরহাট কোর্টে হাজিরা দিতে আসা এক ব্যক্তির সাথে কররী সিএন্ডবি বাজার এলাকায় দেখা হলে তিনি বলেন, অনেক রিকুয়েস্ট করে আদালতে হাজীরা দেওয়ার কথা বলে এ পর্যন্ত এসেছি। বাকি পথটুকু যেতে পারবো কিনা জানিনা। যেতে না পারলে মাঝপথেই আটকে থাকতে হবে।
বিক্ষোভ মিছিলের একপর্যায়ে বাগেরহাট জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ফকির তারিকুল ইসলাম সাংবাদিকদ জানান, চারটি আসন বহালের দাবিতে বাগেরহাটবাসী স্বতঃস্ফূর্ত হরতাল পালন করছে। তারা দোকানপাট বন্ধ রেখেছে। তারা রাস্তায় নেমে এসেছে বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান গ্রহণ করেছে। এটা তাদের প্রতিবাদ। সোমবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে এ বিষয়ে শুনানি রয়েছে। আশা করছি বাগেরহাটের চারটি আসন বহাল থাকবে। বাগেরহাট ৩ রামপাল মংলা সংসদীয় আসনে সুন্দরবন, দেশের দ্বিতীয় সমুদ্র বন্দর মংলা, রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে। এই আসন নিয়ে কোন ষড়যন্ত্র বাগেরহাটবাসী মেনে নেবে না।
বাগেরহাট ৩ (রামপাল মংলা) সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এডভোকেট শেখ মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, অবরোধের মাধ্যমে ঢাকা সহ দেশের অন্যান্য সকল জেলার সাথে বাগেরহাটকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে অবরোধে অংশগ্রহণ করেছে। মংলা সমুদ্র বন্দরের স্বাভাবিক কাজকর্ম বন্ধ করা হয়েছে। আদালত এবং স্কুলগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। বাগেরহাট ৩ থেকে একটি আসন কর্তনের বিষয়ে ইসির সিদ্ধান্ত বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন চালিয়ে যাব। প্রয়োজনে আরো কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।
বিএনপি’র কেন্দ্রীয় গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ শামিমুর রহমান বলেন, বাগেরহাটে রয়েছে বিশ্ব ঐতিহ্য ষাট গম্বুজ মসজিদ ও সুন্দরবন। রামপাল মংলা এলাকায় সাদা সোনা উৎপাদিত হয়। ইসির সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে, স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে, বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল করে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। সর্বশেষ অবরোধের ডাক দিয়েছে বাগেরহাটবাসী। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনো কোন সংবাদ পাইনি। আমরা আন্দোলন থেকে পিছু হটবনা। এই দাবি বাগেরহাটের মানুষের অস্তিত্বের দাবি, সম্মানের দাবি, ন্যায্য অধিকারের দাবি। ৪টি আসন ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত বাগেরহাট অচল থাকবে, সংগ্রাম চলবে।
গেল ৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশনের বিশেষ কারিগরি কমিটি বাগেরহাট জেলার চারটি আসন কমিয়ে তিনটি আসন করার প্রস্তাব দিলে জেলা সকল রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই প্রস্তাব বাতিল ও চারটি আসন বহাল রাখার দাবিতে আন্দোলন শুরু করে।আসন কমানো অথবা বহাল রাখার বিষয়ে ২৫ আগস্ট নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে








