করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করা কষ্টসাধ্য কারন এটি অতি সহজেই ছড়িয়ে পড়ে এবং আক্রান্ত ব্যক্তি দুই সপ্তাহ পর্যন্ত এই রোগের কোন অনুসর্গ অনুভব করেন না যার ফলস্বরুপ নিজ অজান্তেই অন্যদের মাঝে রোগটি ছড়িয়ে দেন। এই রোগটি ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়লে স্বাস্থ্যখাতে অনাকাঙ্খিত চাপের সৃষ্টি হবে এবং হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের অপ্রতুলতার কারণে অনেকেই পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবার অভাবে আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে যাবেন, যা কোনভাবেই কাম্য নয়।
তাই এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রথম ধাপ হচ্ছে যেকোনো মুল্যে এর ছড়িয়ে পড়া রোধ করা।
শুধুমাত্র আমরা সকলে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হলেই তা সম্ভব হবে। সামাজিক মেলামেশা বন্ধ করে দিলে এবং কিছু নিয়মকানুন যথাসাধ্য মেনে চললে আমরা এই ভাইরাসের বিস্তার থামিয়ে দিতে পারি এবং নিজেদের ও নিজেদের আপনজনদের এই ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা করতে পারি। এছাড়াও কিছু আনুষঙ্গিক কাজ সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে করলে আমরা সমাজের সাধারণ মানুষদের দুর্দিনের সহায় হতে পারি।
করোনা প্রতিরোধে করণীয় –
১) যথাসম্ভব কোলাহল পূর্ণ স্থান পরিহার করা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা।
২) একান্ত প্রয়োজন ছাড়া বাড়ী থেকে বের হওয়া থেকে বিরত থাকা।
৩) হাঁচি ও কাশির শিষ্টাচার মেনে চলা; অর্থাৎ হাঁচি ও কাশির সময় নাক ও মুখ টিস্যু বা রুমাল দিয়ে ঢাকা এবং একান্ত প্রয়োজনে কনুই দিয়ে ঢাকা এবং ব্যবহৃত টিস্যু নির্ধারিত স্থানে ফেলা এবং রুমাল সাবান দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলা।
৪) পাবলিক প্লেসে থুথু, কফ ফেলা সম্পূর্ণ বর্জন করা।
৫) অভিবাদনকালে হাত মেলানো, জড়িয়ে ধরা হতে বিরত থাকা।
৬) অপরিষ্কার হাতে নাকে, মুখে ও চোখে হাত দেয়া থেকে বিরত থাকা।
৭) ঘন ঘন সাবান পানি দিয়ে নূন্যতম ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোয়া / হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের ক্ষেত্রে ৭০% এ্যালকোহল সমৃদ্ধ হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করা।
৮) বাহিরে বিচরণকালে অথবা জন সমাবেশে অবস্থানকালে নিজের ও সকলের নিরাপত্তার জন্য মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করা।
৯) ফুস্ফুসের যত্ন নিতে ধূমপান পরিহার করা। করোনা আক্রান্ত ব্যাক্তির জন্য ধূমপান অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ।
১০) বাইরে থেকে বাসায় আসার পরে বাইরে পরিধেয় কাপড় বাসার কাপড় থেকে পৃথক রাখা, এবং যত দ্রুত সম্ভব কাপড় গুলো সাবান দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলা।
১১) নিজের বাসা, কর্মক্ষেত্র পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা।
১২) বৃদ্ধ, শিশু, অসুস্থজন এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে অধিক সাবধানতা অবলম্বন করা।
১৩) রান্নার পূর্বে খাদ্যদ্রব্য ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করা এবং ভালোভাবে সিদ্ধ করে রান্না করা।
১৪) বেশি ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খাওয়া ও সুষম খাবার খাওয়া যাতে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
১৫) সকল প্রকার ঠাণ্ডা খাবার পরিহার করা।
১৬) সংক্রমণরোধে হাত ও পায়ের নখ এই মহামারি শেষ না হওয়া পর্যন্ত ছোট রাখা।
১৭) টাকা-পয়সা ধরার পরে অতিসত্বর হাত সাবান বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে জীবাণুমুক্ত করে ফেলা।
১৮) অপরিষ্কার হাতে মোবাইল ফোন ধরা থেকে বিরত থাকা এবং ধরে থাকলে মোবাইল ফোনকে জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা করা।
১৯) পরিবার ও পরিচিত সকলকে করোনা প্রতিরোধ বিষয়ে সচেতন করা।
২০) প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্যপণ্য ও অন্যান্য দ্রব্যাদি মজুদ করে বাজারের ভারসাম্য নষ্ট না করা।
২১) মিথ্যা তথ্য ও আতঙ্ক না ছড়ানো।
২২) এই দুঃসময়ে নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের পাশে দাঁড়ানো।
আশা করি আমরা সকলেই করোনা প্রতিরোধে করনীয় কাজগুলো অনুসরণ করব, নিজেকে, পরিবারের সকলকে এবং সমাজের সবাইকে সুরক্ষিত রাখব, ধন্যবাদ।









