করোনাভাইরাস বিষয়ে ছাগলনাইয়া উপজেলার সার্বিক দিক তুলেধরে বর্তমান সময়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়ে ছাগলনাইয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ইউএনও, এসিল্যান্ড, ওসি ও মেয়র’র দৃষ্টি আকর্ষণ করে ছাগলনাইয়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক আবুল হাসান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার নিজ আইডিতে আজ শনিবার একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
স্ট্যাটাসটি সাংবাদিক আবুল হাসান’র আইডি থেকে কপি করি নিম্নে তুলে ধরা হলোঃ-
ছাগলনাইয়া উপজেলা চেয়ারম্যান,ইউএনও,মেয়র,এ্যাসিল্যান্ড,সেনাবাহিনী ও পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি-
সরকার ইতিমধ্যে দেশের মানুষকে বাঁচাতে আগ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে । ধন্যবাদ সরকার প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে । বৈশ্বিক সমস্যা করোনার সংক্রমন ঠেকাতে প্রশাসন থেকে অতি-নিত্য প্রয়োজনীয় কাঁচাবাজার,মুদি,হাসপাতাল ও ফার্মেসীগুলো খোলা রাখার সিদ্ধান্ত রয়েছে।এর মধ্য ঘোষণা মতো মুদি-কাঁচাবাজার দুপুর ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকবে । যাত্রীবাহী যানবাহন ও অন্য দোকানগুলো বন্ধ থাকার ঘোষণা ছিল । সরকারের সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন ও এই দুর্যোগে ছাগলনাইয়া উপজেলাবাসীকে নিরাপদ রাখা ও দু-মুঠো খাবার তুলে দেয়ার জন্য ছাগলনাইয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল ,ইউএন্ও সাজিয়া তাহের, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ শিহাব, ওসি মেজবাহ উদ্দিন আহম্মদ, ছাগলনাইয়া পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ মোস্তফা,সহ জনপ্রতিনিধি-প্রশাসনের কর্তাব্যক্তি, সামাজিক সংগঠনের ভূমিকা উপজেলাবাসীর জন্য কালজয়ী ইতিহাস হয়ে থাকবে । উদ্বেগ-উৎকন্ঠার রাত্রি একদিন মহাকালের অংশ হবে । বেচেঁ থাকলে হয়ত করোনা মুক্ত খোলা আকাশে নিঃশ্বাস নিতে পারবেন ছাগলনাইয়াবাসী । সেই-দিন এই প্রান্তরে আপনাদের মহৎ কর্মগুলো স্মৃতি-আর ভালোবাসার আবেশে ভরে থাকবে ।
আপনাদের প্রতি সম্মান রেখে ছাগলনাইয়া বাজারের অবস্থা নিয়ে এলাকাবাসীর উদ্বেগ-উৎকন্ঠার কিছু বিষয় আপনাদের নজরে তুলে ধরার চেষ্টা করছি । ছাগলনাইয়া পৌর শহরের জমাদ্দার বাজারে সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত খাবার হোটেল ছাড়া সকল ধরণের দোকান-পাট খোলা থাকছে। ঈদের বাজারের মতো ব্যাপক লোকসমাগম ঘটছে । সড়কে শত শত যাত্রীবাহী সিএনজি যাত্রী নিয়ে ছুটছে ।সামাজিক নিরাপদ দুরত্ব বজায় থাকছে না । এই সময়ের মধ্যে নিরাপদ দুরত্ব বজায় রেখে কেনা-কাটার ব্যাপারে সকল মহলে সতর্কতার দেখা মিলছে না । প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুপুর ১২টার পূর্বে কোন ধরণের বাজার পর্যবেক্ষণ চোখে পড়ছেনা বলে সুধী মহলের অভিযোগ । দুপুর ১২টার পর সড়কে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি ও তৎপরতা চোখে পড়ার মতো । দুপুর ১২টা পর্যন্ত সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে ব্যাপক জনসমাগম ও সামাজিক নিরাপদ দুরত্ব বজায় না থাকায় বাজার থেকে পণ্যের সঙ্গে করোনা ভাইরাস নিয়ে যাচ্ছে কিনা এ নিয়ে উদ্বেগ-উঁৎকন্ঠা বাড়ছে । সামনের সময়ে আমাদের জন্য কি অপেক্ষ করছে-তা একমাত্র আল্লাহই জানেন । আমি মনে করি, ঘোষিত সময়ে সর্বসাধারণ কাঁচাবাজার ও মুদি কেনাকাটা করবেন । বাকি আইটের দোকান-পাঠ সরকারের পরবর্তী ঘোষণা পর্যন্ত অবশ্যই বন্ধ রাখা দরকার । বন্ধ রাখার ঘোষিত দোকানগুলো বন্ধ থাকলে এত বাজারে এত লোক সমাগম ঘটতো না বলে সচেতন মহলের ধারণা । তাই মুদি,কাঁচাবাজারের বাহিরে থাকা দোকানগুলো বন্ধ রাখা নিশ্চিত করা জরুরী । সকাল থেকে ১২টার পর্যন্ত এই সময়ে নিরাপদ দুরত্ব বজায় রাখার ব্যাপারে প্রশাসনের তদারকি বা পর্যবেক্ষণ করা জরুরী ।নিরাপদ দুরত্ব বিঘ্নিতকারীর বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান জোরদার করা দরকার । বাজারের সময় কমিয়ে আনা যেতে পারে ।
মোট কথা- সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখেই করোনা ভাইরাসের সংক্রমন ঠেকানোর লক্ষে সরকারের ঘোষিত সময়কে সকল মহলের গুরুত্ব দেয়া দরকার । মানুষ কেনা-কাটা অবশ্যই করবেন । দুস্থরা-শ্রমজীবী মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন । সবই সত্য ।তাদের অভাবে দিন যাচ্ছে ,তাও ঠিক, কিন্তু বেঁচে থাকার জন্য কিছু কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার সবাইকে করতেই হবে ।আর বর্তমানে সরকার,রাজনীতিক দলসহ সামাজিক সংগঠনগুলো দুস্থ ও অসহায়-কর্মহীনদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন । এই সময়কে কাজে লাগাতে দেশবাসীকে এগিয়ে আসা দরকার । প্রশাসনকে সবার আগে এগিয়ে আসতে কঠোর এবং কঠিন হাতে । কারণ,অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, বাঙালী কথার চেয়ে লাঠির ভাষাকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে । যুক্তরাষ্ট্র,স্পেন,ইতালি,জার্মানীর মতো পরিস্থিতির জন্য সামাজিক নিরাপদ দুরত্ব বজায় না রাখাকে দায়ী করছে বিশ্বসমাজ । আজ তারা গুরুত্ব না দেয়ার কারণেই ওই সব দেশে করোনার আক্রমন মহামারীর রুপ নিয়েছে । পক্ষান্তরে চীন-রাশিয়াসহ অনেক দেশের মানুষ হোম কোয়ারেন্টাইন মানার কারণে অনেকটাই নিরাপদ হয়ে ওঠছে । তাদের থেকে আমাদের শিক্ষা নেয়া দরকার । এই সম্মিলিত সমস্যাকে সম্মিলিতভাবে মানতে হবে । না মানলে জোর করে হলেও মানাতে হবে । যারা সচেতন নন , এর প্রচারের পরও সচেতনতা মানবেন না । এটা ভয়ানক বিপদের কারণ হতে পারে । তিনি নিজেও মরবেন । বাকিদেরও মারবেন । তাই নিজের ও দেশের স্বার্থে সবাইকে নিজ থেকে সরকার ও স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে । কেউ না মানলে তাকে শাস্তির আওতায় আনা দরকার ।কেউ মানবেন-কেউ মানবে না, এ রকম অবস্থায় কেউ বাঁচবে না । সবাইকে ক্ষতিগ্রস্থ হতে হবে । এই সত্য জোরপূর্বক হলেও সবাইকে উপলদ্ধি করাতে হবে । এর জন্য প্রশাসন-জনপ্রতিনিধি,সাংবাদিক,সুশীল সমাজসহ সবার আন্তরিক ও কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশার দাবিদার ।আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন । আমিন ।
আবুল হাসান,
সাবেক সভাপতি ছাগলনাইয়া প্রেসক্লাব ।
তারিখ-৪-৪-২০২০









