২০১৪ সালের পরে দলে যারা যুক্ত হয়েছেন তারা কেউ পদ পাবেনা। এছাড়াও যারা দলীয় শৃংখলা ভঙ্গ করে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেছেন তারা পদ পাবেনা। এবং অনুপ্রবেশকারীরা সাংগঠনিক পদে থাকলেও বাদ দিতে হবে বলে জানান তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর যারা পিঠ বাঁচানোর জন্য আওয়ামী লীগে এসেছে তাদের কোনভাবেই পদে রাখা রাখা যাবে না বলে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর শিল্পকলা একাডেমিতে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি। সদ্য অনুষ্ঠিত ঢাকা দুই সিটি নির্বাচন নিয়ে বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, বিএনপি সব সময় প্রযুক্তিকে ভয় পায়। ঢাকা সিটি নির্বাচন নিয়ে নানারকম বিচার-বিশ্লেষণ চলছে। কিন্তু উপমহাদেশের মানদণ্ডে এটি একটি ভালো নির্বাচন হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে কোনো হাঙ্গামা ঘটেনি। সিল মারার ঘটনা ঘটেনি। ইভিএমে ভোট গ্রহণ করার কারণে এসব বিশৃংখলা ঘটেনি। কারণ, ইভিএমে একজনের ভোট অন্যজনের দেয়ার সুযোগ নেই। মন্ত্রী বলেন, ইভিএম নিজেই প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের একজন এজেন্ট হিসেবে কাজ করে। আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে সমস্যার কারণে খোদ প্রধান নির্বাচন কমিশনার ভোট দিতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছেন। কিন্তু ইভিএম নিয়ে বিএনপি নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। আসলে বিএনপি প্রযুক্তিকে সব সময় ভয় পায়। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় বিনামূল্যে বাংলাদেশে সাব-মেরিন ক্যাবল দিতে চাওয়া হয়েছিল। তখনকার প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন, সাব-মেরিন ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত হলে বাংলাদেশের সব গোপন তথ্য বাইরে চলে যাবে। তিনি সাব-মেরিন ক্যাবলে বাংলাদেশকে যুক্ত করেননি। পরে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয় করে আমাদের সাব-মেরিন ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত হতে হয়েছে। হাছান মাহমুদ বলেন, ঢাকা সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপি বলেছে, এটি আন্দোলনের অংশ। এখন বিএনপির আন্দোলন মানে মানুষ মনে করে জ্বালাও-পোড়াও, হাঙ্গামা। বিএনপির এই প্রচারের কারনে মানুষ ভোটকেন্দ্রে যায়নি বলে জানান তিনি। তারপরেও যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ভোটার উপস্থিতি বেশি। আর ৫৫ লাখ ভোটারের একটি শহরে সুন্দর ভোটের আয়োজন করার জন্য নির্বাচন কমিশন ধন্যবাদ পাবার যোগ্যতা রাখে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। সভায় আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের আহান জানান দলের রাজশাহী বিভাগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় দলকে গুরুত্ব দিতে হবে। নিজস্ব বলয় তৈরি করা সমীচিন হবে না। মৌচাকে মধু না থাকলে কাউকে পাশে পাওয়া যায় না। ত্যাগী নেতাকর্মীদেরম মূল্যায়ন করতে হবে। সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন আওয়ামী লীগের রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন। তিনি আগামী মার্চ মাস থেকেই রাজশাহীর উপজেলাপর্যায়ে সম্মেলনের নির্দেশ দেন। এ সময় সম্মেলনে নিজের আত্মীয়দের পদ-পদবিতে আনার ব্যাপারেও সতর্ক করে দেন তিনি। বলেন, নিজের লোক টেনে লাভ নেই। আওয়ামী লীগে শেখ হাসিনা ছাড়া কেউ গুরুত্বপূর্ণ নয়। প্রতিনিধি সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম ঠাণ্ডু, বেগম আখতার জাহান, ডা. মেরিনা জাহান কবিতা,বাগমারার এমপি ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক, পবা-মোহনপুরের এমপি আয়েন উদ্দিন,পুঠিয়া-দূর্গাপুরের ডা. মুনসুর রহমান,সাবেক এমপি জিন্নাতুন নেসা তালকুদার, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি আদিবা আনজুম মিতা। সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেরাজ উদ্দিন মোল্লা। সভা পরিচালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক কাজী আব্দুল ওয়াদুদ দারা।








