দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে গরু চুরি সন্দেহে এক যুবককে মারধরের প্রতিবাদ করতে গিয়ে রুহুল আমিন (৩৫) নামে এক রাজমিস্ত্রি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার উপজেলার খয়েরবাড়ী ইউনয়নের অ¤্রবাড়ীতে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন নিহতের স্বজনসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।
গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন। এর আগে ওইদিন সকাল ১০টায় তাকে মারপিটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও চার জন আহত হয়।
এদিকে নিহত রুহুল আমিনের মরদেহ গ্রামের বাড়ি অম্রবাড়ী পৌঁছালে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরই প্রতিবাদে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন নিহতের স্বজনসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় তাঁরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসি কার্যকরের দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রইচ উদ্দিন, নিহতের ভাই রাশেদ, রফিকুল ও শাহিনুরসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা। বক্তারা বলেন, নিরীহ একজন মানুষকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। তাঁরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
নিহতের ভাই রাশেদ বলেন, ‘আমার ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ হত্যার বিচার চাই। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, মামলা না হওয়া পর্যন্ত তাঁর ভাইয়ের মরদেহ দাফন করা হবে না। এ সময় তিনি দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অম্রবাড়ী গ্রামের সামিউল মুন্সির একটি গরু গোয়ালঘর থেকে ছুটে যায়। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গরুটি নিয়ে ফুলবাড়ী পৌরবাজারের দিকে যাওয়ার সময় একই গ্রামের মৃত মোস্তফা আলীর ছেলে খোরশেদকে (২৭) আটক করেন স্থানীয় কয়েকজন। পরে তাঁকে নাউয়ার মোড় এলাকায় নিয়ে গরু চুরির সন্দেহে মারধর করা হয়।
এ সময় খোরশেদের চাচাতো ভাই রুহুল আমিন মারধরের প্রতিবাদ করলে তাকেও এলোপাতাড়ি বেধড়ক পারপিট করা হয়। এতে তাঁর মাথায় আঘাত লেগে গুরুতর আহত হয় । পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিবারের সদস্যরা রুহুল আমিনকে উদ্ধার করে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে শুক্রবার রাত ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় আহত অন্য চারজন হলেন অম্রবাড়ী গ্রামের মৃত খলিল উদ্দিনের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৫০) ও তাঁর ছেলে মহিন আলী (২০), মৃত মোস্তফা আলীর ছেলে খোরশেদ (২৭) এবং তাঁর ভাই রাশেদ ইসলাম (৩০)। তাঁরা ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
খয়েরবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শামিম হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক। কেউ অপরাধ করলে তার বিচার করার জন্য দেশে আইন রয়েছে। কারও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া উচিত নয়।’ নিহতের পরিবারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘মামলার প্রস্তুতি চলছে। নিহতের পরিবারের লোকজন এজাহার দিলেই মামলা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আটকের চেষ্টা চলছে।’
Please follow and like us:









