, , ,

শিরোনামঃ-




ফুলবাড়ীতে ২৬শে আগস্টের স্মরণ সভায় অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ

মোঃ আবু শহীদ, ফুলবাড়ী,দিনাজপুর করেসপন্ডেন্ট।

আপডেট টাইম : আগস্ট ২৬ ২০২৩, ১৭:১০ | 938 বার পঠিত | প্রিন্ট / ইপেপার প্রিন্ট / ইপেপার

“ এশিয়া এনার্জি চীনা কোম্পানীর মাধ্যমে সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে ফুলবাড়ী খনি নিয়ে চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে “৬দফা চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রীর যে অঙ্গীকার সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন না হবার কারনে এখন পর্যন্ত এশিয়া এনার্জীসহ বহুজাতিক কোম্পানীগুলো ফুলবাড়ীসহ বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরণের চক্রান্ত অব্যাহত রেখেছে।
শনিবার (২৬ আগষ্ট) সকাল ১১টায় দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির উদ্যোগে “ফুলবাড়ী কয়লাখনি বিরোধী ট্রাজেডি” দিবসে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহম্মদ।
তিনি বলেন, গণ মানুষের আন্দোলনের মাধ্যমে ফুলবাড়ীতে সেদিন যে চুক্তি হয়েছিল,সেই ৬দফা চুক্তির পূর্নাঙ্গ বাস্তবায়ন না হলেও লুটেরা কোম্পানীগুলো আবার নাম পাল্টিয়ে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নের নামে বন,নদী ও পরিবেশ ধ্বংস করে জনবিরোধী প্রকল্প যেমন বিশ্ব পরিবেশের জন্য হুমকি তেমন আমাদের জন্য এটি ভয়ংকর। তাই ২০০৬ সালের ২৬ আগষ্ট ফুলবাড়ীর গণ অভ্যুত্থান শুধু কয়লা সম্পদ রক্ষার আন্দোলন নয়, ফুলবাড়ীর আন্দোলন এই অঞ্চলের লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন জিবিকার আন্দোলন,দেশকে রক্ষার আন্দোলন। জনগণের সম্মতি ছাড়া যেমন কোন কিছুই করা যায় না। তাই তিনি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিকগুলোর উদ্দ্যেশে বলেন,সামনে নির্বাচন, নির্বাচনে ফুলবাড়ীর ছয় দফা চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন যেন তাদের এজেন্ডার মধ্যে আসে। যেই ক্ষমতায় আসুক তাকে সেই অঙ্গিকার বাস্তবায়ন করতে হবে। কারণ ফুলবাড়ীর আন্দোলন প্রাণ প্রকৃতি রক্ষার আন্দোলন, এই অঞ্চলের মানুষের তথা দেশের জনগণের আন্দোলন।
দিবসটি উপলক্ষে শনিবার সকালে তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের নেতৃত্বে এবং পৌর মেয়র মাহমুদ আলম লিটনের নেতৃত্বে পৌর শহরে পৃথক পৃথক ভাবে বিভিন্ন পেশাজিবী সংগঠন শোক র‌্যালী বের করে। পরে ২৬ আগষ্টে নিহতদের স্মরণে নির্মিত শহীদ বেদীতে একে একে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন।
শেষে ছোট যমুনার তীরে শহীদ বেদীতে ফুলবাড়ী উপজেলা শাখা তেল গ্যাস জাতীয় কমিটির আহবায়ক সৈয়দ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে কয়লাখনি বিরোধী প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গণ সংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রিয় কমিটির সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন ফুলবাড়ী পৌর সভার মেয়র আলহাজ্ব মোঃ মাহমুদ আলম লিটন। ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টি (সিপিবি) এর জেলা সভাপতি এ্যাডভোকেট মেহেরুল ইসলাম, তেল গ্যাস কমিটির সদস্য হামিদুল হক, এমএ কাইয়ুম, এসএম নূরুজ্জামান জামান, শফিকুল ইসলাম শিকদার প্রমুখ।
এছাড়াও দোকান কর্মচারি ইউনিয়ন,মটর শ্রমিক ইউনিয়ন,হোটেল কর্মচারি ইউনিয়নসহ বিভিন্ন অরাজনৈতিক পেশাজীবী সংগঠন পৃথক পৃথক কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করেন।
উল্লেখ্য ২০০৬ সালের ২৬শে আগস্ট দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্বতিতে ফুলবাড়ী কয়লা খনি বাস্তবায়নের প্রস্তাবকারি এশিয়া এনার্জি নামক একটি বহুজাতিক কোম্পানীর ফুলবাড়ী অফিস ঘেরাও কর্মসুচি পালন করতে গেলে, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আইন শৃঙ্খলা বাহিনী গণমিছিলের উপর টিয়ারশেল ও গুলিবর্ষন করে। গুলিতে ঘটনাস্থলে নিহত হয় সুজাপুর চাঁদপাড়া গ্রামের মকলেছুর রহমানের ছেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ২য় বর্ষের ছাত্র তরিকুল ইসলাম (২০), বারকোনা গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে আমিন (১৫) ও উত্তর সাহাবাজপুর গ্রামের সালেকিন (১৭)। একই ঘটনায় দক্ষিণ সাহাবাজপুর গ্রামের প্রদীপ চন্দ্র, রতনপুর গ্রামের শ্রীমান বাস্কে, সুজাপুর গ্রামের বাবলু রায়সহ চিরতরে পঙ্গু হয় প্রায় ৩ শতাধিক মানুষ। এরপর ফুলবাড়ীর মানুষ গণ আন্দোলন গড়ে তোলে। ফলে ফুলবাড়ীর উপর দিয়ে বাস, ট্রেন চলাচলসহ সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সারা দেশের সাথে কয়েকদিন বিছিন্ন হয়ে যায় ফুলবাড়ীর যোগাযোগ । ফুলবাড়ীর মানুষের গণ আন্দোলনের মুখে ৩০শে আগষ্ট তৎকালিন সরকারের প্রতিনিধি দল ফুলবাড়ীবাসীর সাথে একটি বৈঠক করে ৬ দফা সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তির ১৫ বছর পেরিয়ে ১৬ বছরে পদার্পন করলেও বাস্তবায়ন হয়নি সেই ৬ দফা চুক্তি।
ফুলবাড়ীর মানুষ মনে করে,সেদিন যে গণ বিজয় অর্জিত হয়েছিল তা শুধু ফুলবাড়ীবাসীর নয়, এ বিজয় সারা দেশবাসীর জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। অত্র এলাকায় স্থায়ী সম্পদ ধ্বংস করে লাখ লাখ মানুষের অস্তিত্ব বিপন্ন করে কয়লা খনি প্রকল্প চালু হলে উদ্বাস্ত হবে হাজার হাজার পরিবার। ধ্বংস হবে তিন ফসলী জমি। মাঠে ঘাটে খেটে খাওয়া মানুষগুলো ক্ষতিপূরণের অর্থ দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে থাকলে এক সময় তাদেরকে পথে বসতে হবে। তাই মানুষের মনে আশংকা তথা কথিত ফুলবাড়ী কয়লা খনি বাস্তবায়ন হলে কৃষক হারাবে ৩ ফসলি কৃষি জমি, ব্যবসায়ী হারাবে ব্যবসা বাণিজ্য, শ্রমিক হয়ে পড়বে বেকার ও কর্মহীন, ছাত্র-ছাত্রী হারাবে তাদের প্রানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাধারণ মানুষ হবে দিশেহারা ও উদ্বাস্তু। তাই ফুলবাড়ীবাসীর প্রাণের দাবী “স্থায়ী সম্পদ ধ্বংস করে ফুলবাড়ীতে কয়লা খনি চাই না” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে বিভিন্ন অরাজনৈতিক পেশাজীবী সংগঠন ও ফুলবাড়ীবাসী সম্মিলিত ভাবে ২০০৬সাল থেকে ২৬ আগস্টের এই দিনটি ফুলবাড়ী শোক দিবস হিসেবে উদ্যাপন করে আসছে।

Please follow and like us:

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

 

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৬০১৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত।

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET