লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার পরিবেশ দূষণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইটভাটাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সদস্য ড. আনোয়ার খানের এক প্রশ্নের জবাবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বিষয়টি নিচ্ছিত করেছেন।
সূত্র জানায়, উপজেলার ২০টি ইটভাটার মধ্যে ১৪টিই অবৈধ। পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ছাড়া উপজেলা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বছরের পর বছর অবাধে চলে আসছে এ সব ইটভাটা। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নীতিমালা লঙ্ঘনকারী অবৈধ ইটবাটাগুলো দ্রুত বন্ধের দাবি স্থানীয়দের।
জনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে তিন কিলোমিটার দূরে ইটভাটা স্থাপনের বিধান থাকলেও ইটভাটার মালিকরা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে কৃষকদের মুনাফার লোভ দেখিয়ে কৃষি জমি লিজ নিয়ে আবার কেউ কৃষি জমি কিনে ইটভাটা স্থাপন করছে। হাওয়াই ইটভাটার স্থলে বাংলা ভাটা স্থাপন করে কয়লার পরিবর্তে কাঠ ও কৃষি জমির টপসয়েল ব্যবহার করছে। ইটভাটাগুলোতে কয়লা পোড়ানোর কথা বললেও কার্যত পোড়ানো হচ্ছে বনভূমির গাছ, গাড়ির পুরাতন টায়ার ও রাবার। যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো নজর নেই। ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে বেআইনিভাবে কাঠ ব্যবহারে একদিকে যেমন ধ্বংস হচ্ছে বনজ সম্পদ, অন্যদিকে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য।
শৈরশৈই গ্রামের এমএমবি ব্রিকস, আববাছ ব্রিকস অ্যান্ড ম্যানুফেকসারিং, মেঘনা ব্রিকস অ্যান্ড ম্যানুফেকচারিং, সুধারামপুর গ্রামে এবিএম ব্রিক, আকরতমা গ্রামে এসবিএম ব্রিক, এফবিএম ব্রিক, কাটাখালি গ্রামে এইসটিসি ব্রিক, দুলাল আটিয়া ব্রিকস, বাট্টা রামসিংপুরে এমএসবি ব্রিকস, লক্ষ্মীধরপাড়ায় মোতালেব ব্রিক, হাজির পাড়ায় এমডিএ ব্রিক, দেহলায় মদিনা ব্রিক, জেরিএম ব্রিকস, আজিমপুরে পাটোওয়ারী ব্রিকসহ ১৪টি অবৈধ ইটভাটা চলছে নীতিমালা লঙ্ঘন করে।
কৃষিবিদরা মনে করছেন, ভাটার চিমনি থেকে নির্গত ধোঁয়ায় চারপাশের মানুষের জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের ফল গাছের ফলন কমে গেছে। এ ছাড়া ফসলি জমি থেকে মাটি কাটায় জমির উর্বরতা শক্তি, প্রধান উপাদান ও উৎপাদন ক্ষমতা নষ্ট হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকার জমির উর্বরতা শক্তি কমে গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ইটভাটার মালিক জানান, সংশ্লিষ্ট সবাইকে ম্যনেজ করেই ইটভাটা পরিচালিত হয়ে আসছে। থানা, উপজেলা, জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন জাতীয় দিবশ উদযাপনের জন্য ইটভাটার মালিকদের কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করা হয়। সম্প্রতি বিজয় দিবস উপলক্ষে অবৈধ ইটবাটা কমিটির মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসনকে দুই লাখ টাকা দিতে হয়েছে।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসিন জাহান জানান, বিজয় দিবস উপলক্ষে ইটভাটা থেকে সারা দেশেই টাকা নেয়া হয়। বিজয় দিবসে যে টাকা নেয়া হয়েছে সেটার সাথে অবৈধ ইটভাটার কোনো সম্পর্ক নেই। অবৈধ ইটভাটাগুলোতে অচিরেই অভিযান চালানো হবে।
লক্ষ্মীপুর-১ রামগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য ড. আনোয়ার হোসেন খান বলেন, অবৈধ ইটভাটার বিষয়টি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেছি। চিহ্নিত তিনটি ইটভাটার ছাড়পত্র বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যান্য অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রমের মামলাসহ আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।









