করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে অফিস,আদালত,যানবাহন,দোকানপাটসহ হোটেল রোস্তরা বন্ধ হয়ে গেছে। একারনে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে কমেছে দুধের দাম ও পোলট্রি মুরগির দাম এতে চরম লোকসান গুনতে হচ্ছে খামারীদের।
বাজারে দুধের চাহিদা না থাকায় তারা পানির দামে দুধ বিক্রি করছে,এতে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা লোকসানে পড়ছেন খামারীরা।
উপজেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আহসান হাবীব জানান, পৌর এলাকাসহ উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে প্রায় ৮০টি গরুর খামার রয়েছে। এর পাশাপাশি ৬০-৭০হাজার গরু রয়েছে এর মধ্যে ২৫-৩০ হাজার দেশি ক্রসযুক্ত দুগ্ধ গাভী ও প্রায় ৪০ হাজার বিদেশী গাভী রয়েছে। এছাড়ও প্রতিটি বাড়ীতে ২-১টি করে দুগ্ধ গরু রয়েছে তারাও দুধ বিক্রি নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। তিনি আরও বলেন উপজেলায় লেয়ার ও বয়লার জাতের পোলট্রি মুরগির ছোট ও মাঝারী খামার রয়েছে ২৫০টি। এই পোলট্রি খামারীরাও একই সমস্যায় পড়েছে।
ফুলবাড়ীর বিভিন্ন খামার ঘুরে খামারীরেদের সাথে কথা বলে জানা গেছে,দেশে করোনা ভাইরাস বিস্তারের পুর্বে বয়ালার জাতের পোলট্রি মুরগি বিক্রি হতো ১২০-১৩০টাকা কেজি। যা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে এবং সেনালী জাতের পোলট্রি মুরগি ১৫০-১৬০টাকা কেজি দরে। খয়েরবাড়ী এলাকার খামারী শাহিনুর বলেন মুরগির দাম কমলেও খাবারের দাম বেড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে তাদের খামার বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। খামারীরা তাদের মুরগি কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। কেউ কেউ কমদামে মুরগি বিক্রি না করায় তাদের মুরগির বয়স বেড়ে যাওয়ায় খাদ্য কিনতেও হিশশিম খাচ্ছে। এতে তাদের হাজার হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।
উপজেলার সাদিক ডেইরী ফার্মের মালিক শিবলী সাদিক বলেন বলেন,তার খামারে ১৪টি গাভি রয়েছে,প্রতিদিন প্রায় ১২০ থেকে ১৩০ কেজি দুধ উৎপাদন হয়। শহরের হোটেল রোস্তরাগুলো বন্ধ থাকায় এই দুধ তিনি বাজারে বিক্রি করতে পারছেননা। এতে করে তাকে প্রতিদিন ছয় থেকে সাত হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। তিনি বলেন তার ছোট খামারে যদি এ অবস্থা হয়,তাহলে বড় খামারীদের লোকসান আরো কত হবে? একই কথা বলেন সুজাপুর গ্রামের খামারী অরুনসহ একাধিক খামারীরা।









