নয়া আলো ডেস্কঃ- নগরীর আবাসিক ভবনের ভেতরে চলছে কোচিং বাণিজ্য। কোচিং সেন্টার বা ব্যাচের নাম থাক আর না থাক পাঠদান করা হয় ঠিকই। শিক্ষার্থীরও কমতি নেই সেখানে। প্রাথমিক থেকে শুরু করে কলেজ পর্যায় পর্যন্ত পাঠদান করা হয় শিক্ষার্থীদের।
জানা গেছে, মহানগরীতে কোচিং বাণিজ্য প্রাথমিক থেকে শুরু করে অনার্স শ্রেণি পর্যন্ত রয়েছে। কোনো কোনো কোচিং সেন্টারে প্রাথমিক শ্রেণির পাশাপাশি মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়। আবার কোনো কোনো কোচিং সেন্টারে অষ্টম শ্রেণি থেকে শুরু করে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়। আর উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগে থেকেই শুরু করা হয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং। যেখানেও নানা ধরনের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করা হয়। আর বর্তমানে কোচিং সেন্টার বা ব্যাচের জন্য সংশ্লিষ্টরা ব্যবহার করছেন আবাসিক ভবন। যেখানে থাকে না কোনো ব্যাচের নাম বা ব্যানার। তবে ভেতরে ঠিকই চলে কোচিং বা ব্যাচ। অভিভাবকেরা এমনভাবে বাইরে অপেক্ষা করেন যেন কোথাও বেড়াতে এসেছেন।
সরেজমিন নগরীর মৌলভীপাড়া, বাইতিপাড়া, মির্জাপুর, দোলখোলা মোড়, পিটিআই মোড়সহ আরও অনেক জায়গায় আবাসিক ভবনে চলছে কোচিং সেন্টার ও ব্যাচ। সকাল-বিকেল নিয়ম করেই চলছে এই অবস্থা।
সকাল ১০টায় ব্যাচ থেকে বের হওয়া নগরীর দিলখোলা রোডস্থ মো. সিয়াম হোসেন বলেন, কোচিং সেন্টার ও ব্যাচ নিয়ে প্রশাসনের তৎপরতার পর থেকে আবাসিক ভবনে তারা ক্লাস করেন। যাতে কেউ বিষয়টি বুঝতে না পারে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আলোচনার মাধ্যমে তারা নিয়ম করে ব্যাচ করেন।
দোলখোলা রোডস্থ আবাসিক ভবনে ব্যাচ করাতে নিয়ে আসা নিরালার মোঃ আশরাফ হোসেন বলেন, তাদের কিছুই করার নেই। একদিকে ব্যাচে বা কোচিংয়ে না দিলে সন্তানেরা পড়তে চায় না। আর ব্যাচ বা কোচিং সংশ্লিষ্টরাও বিষয়টি যেন প্রশাসন বুঝতে না পারে সেজন্য আবাসিক ভবন ব্যবহার করেন।
মিস্ত্রিপাড়াস্থ আকলিমা রহমান নামের এক অভিভাবক বলেন, অনেক সময় সন্তানের পছন্দের শিক্ষকরা আবাসিক ভবন ছাড়া পড়াতে চায় না। এ জন্য সন্তান নিয়ে পড়াতে দিয়ে বসে থাকতে হয়।
খুলনা জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলাপ্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আবু সায়েদ মোঃ মনজুর আলম বলেন, বিষয়টি নিয়ে জেলাপ্রশাসকের সাথে আলোচনা করে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।







