ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ঃ
ঝিনাইদহ- মাগুরা মহাসড়কের মধুপুর থেকে আড়ুয়াকান্দী পর্যন্ত সড়কের দৈর্ঘ্য ২ কি.মি। এই দুই (২) কি.মি রাস্তার বেহাল দশার কারনে যাত্রী থেকে পরিবহন চালকদের ভোগান্তি চরমে। এছাড়াও রাতের বেলায় যত্রতত্র খানাখন্দ আর ভাঙ্গাচোরা দুই কি.মি দৈর্ঘ্য পরিণত হয়েছে এক মৃত্যু ফাঁদ।
আড়ুয়াকান্দী এলাকার বাসিন্দা আবু বক্কার(৪০) পেশায় একজন ট্রাক চালক, সড়কের এই অংশের ভাঙাচোরা ও ভোগান্তির কথা বলেন, যত্রতত্র ভাঙ্গা রাস্তার পিচ উঠে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে যে কারনে সব ধরনের যানবহন খাঁদ গর্ত এড়িয়ে ডানে বামে বাঁক নিচ্ছে, আবার অনেক গাড়ি চালক রাস্তার দুর্দশার কারনে যেখানে সেখানে আচমকা গতিরোধ করছে। ফলে পেছন থেকে আসা গাড়ির সাথে সংঘর্ষ লাগছে যার ফলে প্রায়শই ঘটছে দুর্ঘটনা। সড়কের পাশেই অবস্থিত ঝিনাইদহ টেক্সটাইল কলেজ। এই কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী সাদিয়া(১৮)। দৈনন্দিন কাজের জন্য কলেজ ক্যাম্পাস থেকে মধুপুর বাজারে পায়ে হেটে একাধিক বার আসা যাওয়া করেন। কিন্তু তার নিয়মিত পথ চলাচল করাটাও বেশ অনিরাপদ মনে হয়। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সড়ক এর পাশের ফুটপাত এ সহপাঠীদের সাথে কলেজ ক্যাম্পাসে যাচ্ছি হঠাৎ করেই কোন মোটর সাইকেল বা অন্য কোন যানবহন সড়ক থেকে নেমে সামনে চলে আসে, তখন রাস্তার পাশে ফুটপাত এ হেটে কলেজে যেতে অনিরাপদ মনে হয়। এছাড়া একা একা চলাচলে এই ধরনের অবস্থার সৃষ্টি হলে তখন বেশ ভীতিকর লাগে। এছাড়াও ঝিনাইদহ শহরে স্কুল,কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারন মানুষ সড়কের বেহাল দশার কারনে নিয়মিত ভোগান্তি পোহাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ঢাকামুখী সব ধরনের বাস এর চলাচলের মূল সড়ক হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তির ও যেন শেষ নেই এ সড়কে। টেক্সটাইলস কলেজ এর একাধিক শিক্ষার্থী আরও জানায় রাস্তার এই অবস্থার জন্য চারপাশ যেমন ধুলা-বালিতে ফ্যাকাশে হয়ে থাকে তার জন্য কলেজ ক্যাম্পাস এর পরিবেশ যেমন ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তেমনি মারাতœক স্বাস্থ ঝুঁকি বিশেষ করে এ্যাজমা রোগীদের সমস্যা হচ্ছে প্রকট ভাবে।
ঝিনাইদহ-মাগুরা সড়ক পথে দূরত্ব ২৮ কি.মি এর ১৪ কি.মি পথ ঝিনাইদহের সীমানায় ও বাকী ১৪ কি.মি পথ মাগুরা জেলার মধ্যে অন্তর্গত। মাগুরা জেলার অন্তর্গত ১৪ কি.মি পথই মসৃন ও চলাচলে অত্যন্ত উপযোগী অথচ ঝিনাইদহ অংশের ১৪ কি.মি সড়ক চলাচলের জন্য উপযোগী তেমন না হলেও মধুপুর চৌরাস্তা থেকে আড়ুয়াকান্দী এলাকা পর্যন্ত সড়ক চলাচলে একে বারেই অনুপযোগী তার কারন জানতে ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এস.এম মোয়াজ্জেম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে ও সড়কের এই বেহাল অবস্থার ব্যাপারে জানানো হলে তিনি কোন সড়ক ও এলাকার নাম জানতে চান। স্থান এর নাম শুনে বলেন সড়কের এমন অবস্থার কথা আমার জানা ছিলনা। তবে এমন অবস্থা হয়ে থাকলে সড়কের মেরামত দ্রুত করবেন বলে আশ্বস্ত করেন।









