নাঙ্গলকোট প্রতিনিধি:- নাঙ্গলকোট উপজেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক সুমনের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে এক সমাবেশ ও সংবর্ধনা গতকাল বৃহস্পতিবার নাঙ্গলকোট ডিগ্রী কলেজ গেইটে অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি মহিন উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান সামছুউদ্দিন কালু। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সন্ত্রাসী হামলায় আহত উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক সুমন, উপজেলা আওয়ামীগ যুগ্ন আহবায়ক আবুল খায়ের আবু। বক্তব্য রাখেন, নাঙ্গলকোট ডিগ্রী কলেজ উপাধ্যক্ষ নুরুল্লা মজুমদার, মৌকারা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু তাহের, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ ভূঁইয়া, উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক মামুন প্রমুখ। প্রতিবাদ সমাবেশের প্রধান অতিথি উপজেলা চেয়ারম্যান সামছুউদ্দিন কালু বলেন-উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক সুমন মাঠের কর্মী। সে ছাত্র রাজনীতির হৃদয়ের স্পন্দন। আমি দীর্ঘদিন থেকে রাজনীতি করছি। রাজনীতির অনেক বয়স হয়েছে। যুগে-যুগে আমাকে ষড়যন্ত্রের শিকার হতে হয়েছে। আমার বাসায় অস্ত্র দিযে সেনাবাহিনীকে খবর দেয়া হয়েছে। সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন ভুঁইয়ার সময়েও ষড়যন্ত হয়েছে। এক শ্রেণীর আওয়ামীলীগের কর্মীরা ষড়যন্ত করেছে। পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল এমপি গত ৯বছরে নাঙ্গলকোটে বিদ্যুৎ. যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তিন নাঙ্গলকোটকে ৫০বছরে এগিয়ে নিয়েছেন। আওয়ামীলীগের কিছু কু- সন্তানের নিকট লোটাস কামালের এসব উন্নয়ন সহৃ হচ্ছে না। আমরা লোটাস কামালের উন্নয়ন কর্মকান্ডকে তদারকি করে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আমার হাতে কখনো রক্তের দাগ লাগেনি। এ শান্ত রাজনীতিকে অশান্ত করার জন্য কিছু কুচক্রি মহল ষড়যন্ত্র করেছে। বর্তমান ডিজিটালযুগে বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ষড়যন্তকারীদের মুখোশ উন্মোচন হয়েছে। খন্দকার মোস্তাকের মহ দোসরদের মুখোশ উন্মোচন হয়েছে। ছাত্রলীগের সুযোগ-সুবিধা আমি দেখি। ছাত্রলীগকে নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল যেটা বলবে নাঙ্গলকোটের আওয়ামীলীগ,যুবলীগ এবং ছাত্রলীগে সেটা হবে। আগামী নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী এবং আ হ ম মুস্তফা কামালকে বিজয়ী না করে আমরা ঘরে ফিরব না। আগামীদিনে আমরা মাঠে- ময়দানে থেকে লোটাস কামালের নেতৃত্বে সবাই ঐক্যবদ্ধ থেকে সকল অপশক্তির মোকাবেলা করবো। সংবর্ধিত উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক সুমন কান্নাজড়িত কন্ঠে তার বক্তব্যে বলেন, আমি এ এলাকার সন্তান। আপনাদের ভাই। আমি নাঙ্গলকোট এ আর উচ্চ বিদ্যালয় এবং হাসান মেমোরিয়াল ডিগ্রী কলেজে লেখাপড়া এবং ছাত্র রাজনীতি করেছি। দীর্ঘ পথচলায় ছাত্রলীগ যাতে বিতর্কিত না হয় আমি সে চেষ্টা করেছি। মাদকের সাথে আমি জড়িত নই। কোন মুসলমান অন্য কোন মুসলমানকে খাওয়া অবস্থায় মারতে পারে আমি সেটা বিশ্বাস করতে পারি না। হত্যার উদ্দেশ্যে আমার উপর আঘাত করা হয়েছে। মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সফরসঙ্গি হিসেবে আমি সব-সময় কাজ করেছি। আমার প্রিয় অভিভাবক আমার প্রতি যে আন্তরিকতা দেখিয়েছেন আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী সব-সময় আমার চিকিৎসার খোজ-খবর নিয়েছেন। শত ব্যস্ততার মাঝেও হাসপাতালে আমাকে দেখে এসেছেন। আব্দুর রাজ্জাক সুমন নাঙ্গলকোট থানার ওসিকে অনুরোধ করে বলেন, আমার উপর হামলাকারি মুল হোতাকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। আব্দুর রাজ্জাক সুমন আরো বলেন-আমি হাসপাতালে যখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে অসহায়ের মত ছিলাম উপজেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ আমার চিকিৎসার খোজ-খবর নিয়েছেন। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমি শপথ করে বলতে চাই, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে বিজয়ী করার জন্য কাজ করে যাবো। আপনাদের একজন সহযোদ্ধা হিসেবে আপনাদের পাশে থাকবো। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত হচ্ছে। ষড়যন্ত্র হবে। ষড়যন্ত্রকারীদের নিকট মাথানত করবো না। আমি এখনো চিকিৎসাধীন আছি। তার সুস্থতায় সবার নিকট দোয়া চেয়েছেন। তিনি বক্তব্যে দিতে গিয়ে নিজে কাঁদলেন এবং সবাইকে কাঁদালেন। চিকিৎসা নিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল হাসপাতাল থেকে ফেরার পথে উপজেলা ছাত্রলীগের শত শত নেতাকর্মী মোটর সাইকেল শোভাযাত্রা নিয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দু রাজ্জাক সুমনকে লাকসাম বাইপাস সড়ক থেকে প্রতিবাদ সমাবেশে এনে পৌছান। সমাবেশে সন্ত্রাসী হামলায় আহত ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক সুমনকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। উল্লেখ্য গত ৪মার্চ দুপুরে একদল মুখোশপরিহিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী নাঙ্গলকোট বাজারের একটি রেস্তোঁরায় দুপুরের খাবার সময় সুমনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।









