চিতায় তোলা মরদেহের ময়না তদন্ত শেষে দাফনের নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় মৃত ব্যক্তির ৯ বছরের ছেলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উপজেলা প্রশাসন আজ (শুক্রবার) এ নির্দেশ দেন। ঘটনাটি ঘটেছে বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার দত্তডাঙ্গা রাইরসরাজ সেবাশ্রমে। মৃত ব্যক্তির নাম সুব্রত পোদ্দার কানু (৪৩)। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার তেঘরিয়া গ্রামের শুকলাল পোদ্দার ও রিতা রানী পোদ্দারের ছেলে। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর তার নাম রাখা হয়েছিল সোহাগ কাজী।
গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মোল্লাহাট উপজেলার দত্তডাঙ্গা রাইরসরাজ সেবাশ্রমে অবস্থানকালে কাজী সোহাগের মৃত্যু হয়। তার মা রিতা রানী পোদ্দার সেখানে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। সোহাগের মৃত্যুর পর স্ত্রী ও সন্তানদের না জানিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে মোল্লাহাটের উত্তর আমবাড়ি কালী মন্দির সংলগ্ন শ্মশানে হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে দাহ করার জন্য মরদেহ নেওয়া হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে মৃতের স্ত্রী মমতাজ মিম ও মাদ্রাসা পড়ুয়া ছেলে আব্দুর রহমান প্রতিবাদ জানান। তারা মুসলিম ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী কবরস্থানে দাফনের দাবি করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপস্থিত হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ-প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মরদেহ হেফাজতে নেয়।
মৃতের মা রিতা রানী পোদ্দার দাবি করেন, তার ছেলে পূর্বে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিলেন এবং সেই বিবেচনায় দাহ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে তিনি ছেলের পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরে আসার কোনো দালিলিক প্রমাণ দেখাতে পারেননি।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে বাগেরহাট ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালে ময়না তদন্তের পর তার মরদেহ মোল্লাহাট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মৃতের ছেলে আব্দুর রহমানের কাছে মোল্লাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমনা আইরিন জানতে চায় তুমি কি চাও। তখন সে বলে আমি চাই আমার বাবাকে দাফন করা হোক। ছোট্ট এই শিশুর দাবির পর প্রশাসন সোহাগের মরদেহটি ছেলের কাছে হস্তান্তর করে। পরে তাকে তার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করে।
জানাগেছে, ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে জটিলতায় পড়া ব্যক্তির নাম সুব্রত পোদ্দার কানু (৪৩)। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার তেঘরিয়া গ্রামের শুকলাল পোদ্দার ও রিতা রানী পোদ্দারের ছেলে। প্রায় ২১ বছর আগে এফিডেভিটের মাধ্যমে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন । নিজের নাম পরিবর্তন করে কাজী সোহাগ নাম রাখেন। পরবর্তীতে তিনি গোপালগঞ্জের মাঠলা তেতুলিয়া এলাকায় মমতাজ মিম নামের এক নারীকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে আব্দুর রহমান (৯) নামে একটি ছেলে রয়েছে।
মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী রমজানুল হক বলেন, মৃতের শিশু ছেলের দাবির পর প্রশাসন সোহাগের মরদেহটি ছেলের কাছে হস্তান্তর করে। পরে তাকে তার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় ।









