নয়া আলো ডেস্কঃবাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বিশ্বের সেরা স্পিন অলরাউন্ডার। আফগান অধিনায়ক রশিদ খানও বিশ্ব কাঁপানো লেগ স্পিনার। চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম এখন পর্যন্ত স্পিনারদের স্বর্গভূমি। তাই ধারণা করা হচ্ছে, দুই দলই নামবে তাদের সেরা বোলিং শক্তি নিয়ে। হয়তো চট্টগ্রাম টেস্টের ভাগ্যও থাকবে বোলারদের হাতে। তবে টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের ভাবনা ভিন্ন। বাংলাদেশ অধিনায়কের মতে এই টেস্টে আসলে পার্থক্য গড়ে দিবে দুই দলের ব্যাটসম্যানরাই। জিততে হলে সেরা ব্যাটিংয়ের কোনো বিকল্প নেই।
তার সঙ্গে একমত আফগানিস্তানের অধিনায়ক রশিদ খানের । বাংলাদেশ-আফগানিস্তান টেস্ট শুরু আজ। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে খেলা শুরু সকাল ১০টায়। দীর্ঘ ১১ মাস পর দেশের মাটিতে টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ দল। ম্যাচ সামনে রেখে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে সাকিব আল হাসান বলেন, ‘দেখুন দেশে আমরা তো ভালোই বোলিং করেছি। আমাদের স্পিনাররা যখনই সুযোগ পেয়েছে, তাদের পছন্দমতো উইকেট যখন পেয়েছে, সবসময়ই ভালো করেছে। ওদেরও কোয়ালিটি স্পিনার আছে। তবে আমার মনে হয় যে, পার্থক্য গড়ে দিতে পারে এখানে দুই দলের ব্যাটিংটাই।’ সাকিবের কথাতেই স্পষ্ট জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দলের দায়িত্ব নিতে হবে ব্যাটসম্যানদেরই।
বাংলাদেশ দল সর্বশেষ টেস্ট খেলেছে এ বছর মার্চে নিউজিল্যান্ডে। তাই দীর্ঘ বিরতিতে সাদা পোশাকে চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে টাইগারদের জন্য। বিশেষ করে টাইগার ব্যাটসম্যানদের জন্য চ্যালেঞ্জটা বেশি। আর আফগান স্পিনারদের সামলাতে দায়িত্ব নিতে হবে তাদেরই। টাইগার অধিনায়ক তাই স্পষ্ট করেই বলে দিয়েছেন, সাগরিকাতে টেস্ট হবে ব্যাটসম্যানদের চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, চ্যালেঞ্জ অবশ্যই থাকবে ব্যাটসম্যানদের পারফর্ম করার। কারণ, ওদের যারা ফাস্ট বোলার আছে তারাও বেশ ভালো মানের। স্পিনাররা তো খুবই ভালো। স্বাভাবিকভাবেই আমাদের ব্যাটসম্যানদের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। কিন্তু আমি আমার ব্যাটসম্যানদের ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখছি। আসলে গত দুই সপ্তাহে যতটা প্রস্তুতি নিয়েছে, আসলে এর চেয়ে বেশি কিছু করা আমার কাছে উচিত বলে মনে করি না। এখন শুধু মাঠে ওই অনুশীলনের প্রতিফলন ঘটাতে পারলে ভালো কিছু করতে পারবো।’ সেই সঙ্গে জানিয়েছেন, ম্যাচ জিততে হলে ২০ উইকেট নেয়াও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘আমরা ২০ উইকেট নিতে না পারলে কোনো চান্স নেই। যারাই খেলবে, আমাদের চেষ্টা থাকবে ২০ উইকেট নেয়ার। যত কম রানে নেয়া সম্ভব হয়। এবং আমাদের ব্যাটসম্যানদের কাজ খুবই সিম্পল থাকবে, যে যত বেশি রান আমরা করতে পারি ও যত কমে আমরা ওদের আউট করতে পারি।’
আফগানরা আজ নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে তৃতীয় টেস্ট খেলতে নামবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ খেলবে ১১৫তম টেস্ট। যেখানে জয় ১৩ আর ড্র ১৬টি। বলার অপেক্ষা রাখে না, অভিজ্ঞতায় দারুণ এগিয়ে বাংলাদেশ। তবে আফগানরাও আত্মবিশ্বাসী। গেল বছর ভারতের বিপক্ষে নিজেদের অভিষেক টেস্ট ম্যাচে হারলেও এই বছর দ্বিতীয় ম্যাচেই জয় পেয়েছে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। মানে তাদের প্রথম টেস্ট জয় পেতে মাত্র একটি ম্যাচই অপেক্ষা করতে হয়েছে তাও তারা পেয়েছে এক বছরেরও কম সময়ে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ২০০০ সালে অভিষেক টেস্টের পর ২০১৫তে প্রথম জয়ের মুখ দেখে ৩৫তম টেস্টে এসে। এখনো তারা টেস্টে ধুকছে। একশর বেশি ম্যাচ খেললেও এখনো টাইগারদের আসেনি টেস্ট পরিপক্কতা। তাই চমক দেখানোর অপেক্ষায় থাকা আফগানদের হারাতে হলে নিজেদের সেরাটা দেয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
অধিনায়ক সাকিব আল হাসান অবশ্য জয় ভিন্ন অন্য কিছু ভাবছেন না। সেটি বড় ব্যবধানে জয় আর ছোট। তিনি বলেন, ‘জয়টাই গুরুত্বপূর্ণ। ভালোভাবে আর খারাপভাবে নয়। ১ রানে জিতলেও সেটি জয়, ১০০ রানে জিতলেও। ১ উইকেট হোক বা ১০ উইকেট, জয় জয়ই। জেতাটাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।’ জয়ের জন্য এমন মারিয়া থাকার কারণও আছে। বাংলাদেশ দল সবশেষ টেস্ট জিতেছে গেল বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। এরপর টানা দুই ম্যাচ হেরেছে। বিশ্বকাপে দারুণ শুরুর পর শেষটা ভালো হয়নি। সব মিলিয়ে দেশের ক্রিকেটে আস্থা ফেরাতেই জয় চান তিনি। সাকিব বলেন, ‘আমি যেখান থেকে দেখছি, যেহেতু আমাদের শেষ কিছু দিন ভালো সময় কাটেনি বাংলাদেশ ক্রিকেটের ওভারঅল, সবদিক থেকে, সেটা এ দল বলেন, একাডেমি বলেন, কোথাও আমরা ভালো পারফর্ম করতে পারিনি। কেবল অনূর্ধ্ব-১৯ দল ফাইনাল খেলেছে ইংল্যান্ডে। সেদিক থেকে চিন্তা করলে আমাদের জন্য এই ম্যাচটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমরা যদি এই ম্যাচ ভালোভাবে জিততে পারি, আমার কাছে মনে হয়, অনেক কিছুই আবার একটু স্বাভাবিক হতে শুরু করবে।’
এই ম্যাচের আগে দারুণ ভাবে আলোচনায় চট্টগ্রামের উইকেট। স্পিন সহায়ক নাকি পেস? তার উপর বিবেচনা করে আজ সাজানো হবে একাদশ। তাই উইকেট নিয়ে সাকিব বলেন, ‘অনেক সময় দেখা যায় যে চট্টগ্রামে যেমন উইকেট দেখা যায়, তেমন হয় না। আমরা আসলে ওপেন মাইন্ডে আছি। যে ধরণের উইকেটই হবে, চেষ্টা করবো সেটার সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেয়ার। সেটি করতে পারলে আমরা ভালো কিছু করতে পারবো।’
কেমন হবে টাইগারদের একাদশ!
সব মিলিয়ে আজ কেমন হবে বাংলাদেশ একাদশ! যদিও সাকিব তা খোলাসা করতে রাজি হননি। তামিম ইকবাল না থাকাতে তরুণ সাদমান ইসলামকেই সামলাতে হবে ওপেনিং। তার সঙ্গে সৌম্য সরকার নাকি লিটন সেটি এখনো চূড়ান্ত নয়। মুমিনুল হক, মুশফিক, মাহমুদুল্লাহ, থাকছেনই। তবে মোহাম্মদ মিঠুন নাকি মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত সেটি ঠিক হবে উইকেটের ওপর। আসল প্রশ্ন হচ্ছে সাকিবের সঙ্গে ক’জন স্পিনার খেলবেন? মিরাজ ফিট থাকলে শোনা যাচ্ছে তার সঙ্গে নাঈম হাসানের খেলা নিশ্চিত। তবে মিরাজ না থাকতে পারলে হয়তো খেলবেন তাইজুল ইসলামও। আর পেসার হিসেবে আবু জায়েদ চৌধুরী নাকি তাসকিন সেটিও থাকছে বিবেচনায়। কারণ এক পেসার নিয়ে খেললে সুংইয়ের কারণে রাহীকেই খেলানো হতে পারে। দল নিয়ে পরিকল্পনাটা সাকিব দারুণভাবে গোপন রাখলেন। তিনি বলেন, ‘পরিকল্পনা বলে দিলে তো গোপনীয়তা থাকে না। স্বাভাবিকভাবেই পরিকল্পনা আমি বলতে পারবো না। যে দলই তৈরি করি, আমাদের চেষ্টা থাকবে জয়ের।’









