বিদ্যুৎ বিভাগের অসহযোগিতা ও দীর্ঘসূত্রিতার কারণে খাগড়াছড়ি জেলার নবগঠিত গুইমারা উপজেলা প্রশাসনিক ভবনে এখনো প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। এতে একদিকে সরকারি সেবাদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গুইমারা উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ২০২৩ সালে উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। চার দফা সময় বৃদ্ধি শেষে প্রায় ১৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত চারতলা ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস অনন্ত ট্রেডার্স। প্রকল্পে বিদ্যুৎ সংযোগ ও সরবরাহের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দও রাখা হয়েছে।
তবে ভবনের শতভাগ নির্মাণকাজ শেষ হলেও বিদ্যুৎ বিভাগের সহযোগিতা না পাওয়ায় এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে নতুন ভবনে উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রম চালু করা যাচ্ছে না।
গুইমারা উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী রুহুল কুদ্দুস নাঈম জানান, প্রশাসনিক ভবনের সব ধরনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। শুধু বিদ্যুৎ সংযোগ পেলেই ভবনটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের পাশেই পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। কিন্তু উপজেলা প্রশাসনিক ভবনে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে বড় অঙ্কের অর্থের চাহিদা জানানো হয়েছে, যা নতুন উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে বহন করা প্রায় অসম্ভব।
তিনি আরও জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পাঁচটি বৈদ্যুতিক খুঁটি, তার এবং একটি থ্রি-ফেজ ট্রান্সফরমারের জন্য প্রায় ৪ লাখ টাকা ব্যয় করার প্রস্তাব দেওয়া হলেও বিদ্যুৎ বিভাগের সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে এস অনন্ত কনস্ট্রাকশনের বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা মো. মোস্তফা বলেন, আমরা মাটিরাঙ্গা বিদ্যুৎ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী এবং জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে আবেদন করেছি। কিন্তু এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ পাইনি।
মাটিরাঙ্গা বিদ্যুৎ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী জিয়া উদ্দীন বলেন,এই ভবনে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে হলে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা জমা দিতে হবে। নির্ধারিত অর্থ জমা দেওয়ার পরই সংযোগ দেওয়া সম্ভব হবে। তিনি আরও জানান, বিষয়টির বিস্তারিত ব্যাখ্যা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী দিতে পারবেন।
খাগড়াছড়ি জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী কুন্তল সরকার বলেন, আমি মাত্র এক সপ্তাহ আগে যোগদান করেছি। এ বিষয়ে গুইমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমি সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি পরিদর্শন করে কীভাবে সমাধান করা যায় তা দেখব।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে গুইমারা উপজেলায় প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হলেও এখন পর্যন্ত নিজস্ব প্রশাসনিক ভবনের অভাবে গুইমারা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে অস্থায়ীভাবে উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রশাসনিক ভবন না থাকায় উপজেলার অনেক সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। যেসব দপ্তর চালু রয়েছে, তার অধিকাংশই ভাড়া করা ভবনে পরিচালিত হচ্ছে।
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ শেষ হলেও শুধুমাত্র বিদ্যুৎ সংযোগ জটিলতায় তা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। সংশ্লিষ্টদের দ্রুত উদ্যোগে এ সমস্যার সমাধান করে জনগণের কাঙ্ক্ষিত সেবাদান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
Please follow and like us:









