দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের জয়নগর আদিবাসী মহালীপাড়া গ্রামের ৩০টি পরিবারের দিন কাটছে অনাহারে অর্ধাহারে। করোনার প্রভাবে বেকার হয়ে পড়া এই পরিবারগুলোর কেউ খোঁজ রাখেনি ।
মহালী পরিবারগুলোর সংসারের চাকা ঘুরে বাঁশের আসবাবপত্র তৈরী করে বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করে । এখন কারোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গ্রামের হাট-বাজার বন্ধ। বন্ধ হয়েছে তাদের আয় রোজগার। ঘরে যা জমানো ছিল সবেই শেষ। এখন পর্যন্ত তাদেরকে কেউ ত্রান দেয়নি। সারা বছর যে এনজিওগুলো (বে-সরকারী সংস্থা) আদিবাসী বা নৃ-তান্ত্রিক জনগোষ্টির অধিকার আদায়ের জন্য সভা-সেমিনার করে, তারাও খোঁজ নেয়না। ঘরে খাবার না থাকায় অনাহারে-অর্ধাহরে দিন কাটছে তাদের।
জয়নগর আদিবাসী মহালী গ্রামের বাসিন্দা পঞ্চাশউর্দ্ধ বয়সী রবীদাস মহালী বলেন, আমরাতো বাঁশের আসবাব পত্র তৈরী করে হাটে বিক্রি করি। এখন হাট-বাজার বন্ধ তাই আমাদের তৈরী পণ্য বিক্রি হচ্ছেনা। ঘরে খাবার নেই, কেউ ত্রানও দেয়নি। তিনি জানান তিনিসহ তার পরিবারের ৫জন সদস্য গতকাল শনিবার সকালে সামান্য চাল দিয়ে ভাতের ফ্যানসহ খেয়েছেন,এখন তার ঘরে এক মুঠো চাল নেই। একই অবস্থা জয়নগর মহালীপাড়া গ্রামের সুকলা সরেন, রবীদাস সরেন, রমেস মাড্ডিসহ ওই গ্রামের ৩২-৩৩টি পরিবারের। তারা সকলে বাঁশের আসবাব পত্র তৈরী করে হাটে-বাজারে বিক্রি করে। করোনা সংক্রমণ রোধে এখন হাট-বাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ায়, তাদের এই পেশা বন্ধ হয়ে গেছে।
এই বিষয়ে দৌলতপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ মন্ডলের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বলেন সেখানে (জয়নগর গ্রামে) এক নম্বর ওয়ার্ড সদস্য এনামুল হকের মাধ্যমে ত্রাণ দেয়া হয়েছে। তবে ওয়ার্ড সদস্য এনামুল হক জানান জয়নগর গ্রামে ৮০টি দরিদ্র পরিবার রয়েছে, সেখানে তিনি ত্রাণ পেয়েছেন মাত্র ৩০টি পরিবারের জন্য,একারনে অনেক পরিবারকে ত্রাণ দেয়া সম্ভাব হয়নি।
এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুস সালাম চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ত্রাণ পৌঁছে দেয়ার আশ^াস দেন।









