সিরাজগঞ্জে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “ক্লিন সিরাজগঞ্জ-গ্রীন সিরাজগঞ্জ”। করোনা রোধে তারা অসহায় গরীবদের মাঝে প্রথমে লিফলেট বিতরণ শুরু করে। এরপর পর্যায়ক্রমে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দরিদ্রদের হাতে মাস্ক, গ্লোবস, হ্যান্ড ওয়াশ ও সাবান বিতরণ শুরু করে। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে সিরাজগঞ্জ শহরের বিভিন্ন হাট বাজারের দোকানের সামনে গোলাকার বৃত্ত একে সিরাজগঞ্জ বাসীর নজরে আসেন তারা। এবার নতুন করে অসহায় মানুষকে ঘরমুখি করতে বাড়ি যেয়ে খাদ্যদ্রব্য পৌঁছে দিচ্ছেন তারা। ভয়াভয় করোনা প্রতিরোধে সময় উপযোগী যেকোনো ধরণের প্রদক্ষেপ গ্রহন করতে প্রস্তুত বলে জানান সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা আশিক আহম্মেদ। প্রতিদিনি গভীর রাতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ১০০ বাস্তুহারা মানুষ কে রাতের খাবার দিচ্ছে। তারা এখন পর্যন্ত ১২০০ পরিবার কে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে এবং আগামীতে আরো ৫০০০ পরিবার কে দেয়ার ইচ্ছে আছে জানান। এই খাবারের প্যাকেটের মধ্যে ছিলো চাল, ডাল, তেল, আলু, পিয়াজ ও সাবান। প্যাকেট গুলো পেয়ে পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফুটে উঠে। এছাড়া ওইসব পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যাদের মাস্ক ছিলোনা তাদের মাস্ক ও একই সাথে জনসচেতনতা মূলক লিফলেট উপহার প্রদান করেন । এসব বিষয়ে “ক্লিন সিরাজগঞ্জ-গ্রীন সিরাজগঞ্জ” সেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা আশিক আহম্মেদ বলেন, করোনা কোনো সাধারণ বিষয় নয়। বিষয়টি আজ যারা অবহেলা করছেন তারা আগামিতে এর ফল ভোগ করবেন। নিজে সচেতন থেকে লাভ নেই। অন্যকেউ সচেতন করতে হবে। অন্যথায় একসাথে ডুবে যাওয়া ছাড়া কোনো পথ থাকবে না। তিনি বলেন, স্ব স্ব যায়গা থেকে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে এখন অসহায় দের পাশে দাঁড়াতে হবে। তাদের কাছে করোনার থেকে ঘরের চুলায় আগুন না জ্বলাটা বেশি ভয়ানক হয়ে উঠেছে। তাদের ঘরের চাল শেষ। পকেটও শুন্য। এভাবে লকডাউন পরিস্থিতি থাকলে জীবিকার তাগিদে তাদের ঘরে থাকাটা অসম্ভব হয়ে উঠবে। তাদের ঘরছাড়াটা শুধু তাদের জন্য নয়-আমাদের সবারজন্যই বিপদ জনক। ফলে সমাজের বিত্তবানদের এখনি অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর আহবান করেন। তিনি আরো বলেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিভিন্ন কর্মসূচীতে সংগঠনের পাশে থেকে ২৫০ সেচ্ছাসেবক পুরো জেলায় কাজ করছে। তারা প্রতিরাতে ৩০০ অভুক্ত কুকুর কে খাবার দেয়। মানুষ যেন ঘর থেকে বের না হয় সেইজন্য জরুরী ঔষধ সেবা চালু করা হয়েছে, যেখানে আমাদের ফোন দিলেই ঔষধ পৌছে দিচ্ছি তার বাসায়। এছাড়াও করোনায় মৃত ব্যক্তিকে দাফন কাফন বা সৎকারে ৭ জনের টিম রেডি করা হইছে।









