কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা বাঙ্গরা বাজার থানা ৭নং বাঙ্গরা (পশ্চিম) ইউপি’র ০৮নং ওয়ার্ডের ইউপি মেম্বার মাইনুল ইসলাম সরকার (নেছার) এর বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাট ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ করায় ভয়ভীতি ও মামলা-হামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মেম্বারের অনিয়ম ও লুটপাটের কথা উল্লেখ করে মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বাঙ্গরা বাজার থানা বরাবরে পৃথক অভিযোগ করলে স্থানীয় বাসিন্দা বাঙ্গরা বাজার থানা যুবলীগ সদস্য মোঃ শাহীন ভূইয়াকে এ হুমকি দেওয়া হয়। এই ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে যাহার ডায়েরী নং-১৪৬।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাইনুল ইসলাম সরকার (নেছার) ৭নং বাঙ্গরা (পশ্চিম) ইউপি’র ০৮নং ওয়ার্ডের সাধারন গরীব অসহায় জনগণদের কে সরকারের অতিদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের ঘড় নির্মাণ, বিধবা ভাতা ও বয়স্ক ভাতা দেওয়ার নামে এলাকার নিরীহ মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। ঘর নির্মাণ করে দিবে বলে নিন্মোক্ত ব্যক্তিদের নিকট থেকে (১) ইউসুফ খাঁ, পিতা মৃত শব্দর খাঁ গ্রামঃ কুড়াখাল, থানাঃ বাঙ্গরা বাজার, কুমিল্লা থেকে ১০,০০০/- টাকা নেয়। (২) কবির খাঁ, পিতাঃ মৃত. আব্দু খাঁ, গ্রামঃ কুড়াখাল, থানাঃ বাঙ্গরা বাজার, কুমিল্লা থেকে ৫,০০০/- টাকা নেয়। (৩) মোঃ শামসুল হক, পিতাঃ সহিদ মিয়া, গ্রামঃ কুড়াখাল, থানাঃ বাঙ্গরা বাজার, কুমিল্লা থেকে ৩,০০০/- টাকা। (৪) মোঃ বজলু খাঁ, পিতাঃ মৃত. চাঁন মিয়া, গ্রামঃ কুড়াখাল, থানাঃ বাঙ্গরা বাজার, কুমিল্লা থেকে প্রায় ০৬ মাস পূর্বে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দিবে বলে ৫,০০০/- টাকা নেয় কিন্তু অদ্যবদি বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেয় নাই। উপরোক্ত ঘটনাগুলির প্রতিবাদ করলে হুমকি-ধমকি এবং মামলা-হামলার ভয় দেখিয়ে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪/৪/২০২০ ইং তারিখে স্থানীয় কুড়াখাল বাজারে জনসম্মুখে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে। অভিযোগকারী সূত্রে জানা যায়, বিবাদী আমার বিরুদ্ধে হুমকি-ধমকি এবং মামলা-হামলার ভয় দেখিয়েই ক্ষান্ত হননি; প্রয়োজনে নিজের সন্তানকে খুন করে হলেও প্রতিবাদ কারীদের জবাব দিব বলে হুমকি প্রদান করে আসছে। তাই আমার জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ৪/৪/২০২০ ইং তারিখে বাঙ্গরা বাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছি যাহার ডায়েরী নং-১৪৬।

সাক্ষীদের সূত্রে জানা যায়, অতিদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের ঘর নির্মাণ ও বয়স্ক ভাতা দেওয়ার নামে আমার গ্রামের (ইউসুফ খাঁ) কাছ থেকে বিভিন্ন খরচ বাবদ ১৫,০০০/- হাজার দাবী করে। সেই অনুযায়ী আমি ১০,০০০/- টাকা নেছার মেম্বারকে দেই। আর বাকি ৫,০০০/- হাজার টাকার জন্য বিভিন্ন সময় চাপ দিতে থাকে। কিন্তু আমি যখন জানতে পারি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উক্ত ঘর বিনামূল্যে দিতে বলেছে। উক্ত বিষয়ে প্রতিকার পাওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর আবেদন করেছি, অন্যদের একই অভিযোগ। মোঃ বজলু খাঁর অভিযোগ, প্রায় ০৬ মাস পূর্বে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দিবে বলে ৫,০০০/- টাকা নিয়েছে কিন্তু অদ্যবদি বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেয় নাই। উক্ত বিষয়ে প্রতিকার পাওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর আবেদন করেছি।
আরো অভিযোগ এই প্রতিবেদকের কাছে আসে, কুড়াখাল গ্রামের আলেব উদ্দিনের ছেলে মোঃ বাচ্চু মিয়ার(ছাফি) কাছ থেকে ৪৫০০/- টাকা বয়স্ক বাতার কার্ড করে দিবে বলে নিয়েছে, প্রায় দেড় বছর আগে। জাহানারা সাবেক মেম্বারের কাছ থেকে রাস্তা বাবদ ৫০,০০০/- টাকা নিয়েছে। শাহজাহান মোল্লার কাছ থেকে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দিবে বলে ছয় মাস পূর্বে ৪,০০০/- টাকা নিয়েছে। মোল্লা বাড়ির সাহেরা খাতুনের কাছ থেকে বিধবা ভাতা করে দিবে বলে ৪,০০০/- হাজার টাকা এক বছর আগে নিয়েছে।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি মেম্বার মাইনুল ইসলাম সরকার (নেছার) বলেন, ‘আমাকে হেয় করতেই এসব অভিযোগ তোলা হয়েছে। এসব সম্পূর্ণ মিথ্যা।’
এব্যাপারে মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিষেক দাস বলেন, এই ব্যাপারে আমি কয়েকটি অভিযোগ পেয়েছি, জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।









