তন্ময় আহমেদ নয়ন,লালমনিরহাট প্রতিনিধি-লালমনিরহাট জেলা যুবলীগের সম্মেলন প্রায় এক যুগ পর হতে যাচ্ছে। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর লালমনিরহাট জেলা পরিষদ অডিটরিযামে যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। সম্মেলনের তারিখ ঘনিয়ে আসায় প্রার্থীরা তৃণমুলের নেতাকর্মী সহ কাউন্সিলরদের নিকট দোয়া ও ভোট প্রার্থনা করছেন। দীর্ঘদিন পর সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা হওয়ায় প্রানবন্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে লালমনিরহাট জেলা যুবলীগের নেতা-কমর্ীদের মাঝে।লালমনিরহাট জেলায় ৫টি উপজেলা,২ টি পৌর শাখা ও বর্তমান জেলা কমিটির মোট ২২১জন ভোটারের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কে হবে জেলা যুলীগের যুবরাজ এ নিয়ে শত জল্পনা কল্পনা তৈরি হয়েছে তৃণমুলের নেতা-কর্মীদের মনে। সম্মেলন ঘনিয়ে আসায় পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চলছে প্রচার প্রচারণা, ভাইরাল করছেন পছন্দের প্রার্থীকে। ইতিমধ্যে ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছেন লালমনিরহাট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আব্দুল খালেক বাবু। জানা যায়,আলহাজ্ব মাঈন উদ্দিন ও মোছাঃ আবেদা খাতুন দম্পতির ঘর আলোকিত করে ১৯৮১ সালের ২২শে নভেম্বর লালমনিরহাট পৌরসভাস্থ থানা পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন আব্দুল খালেক বাবু। তার পিতা একজন ব্যাবসায়ি এবং তার মা গৃহিণী । পরিবারের কনিষ্ঠ সন্তান হওয়ার সুবাদে ছোটবেলা থেকেই তিনি
অত্যান্ত ডানপিটে স্বভাবের। পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে খালেক বাবু সবার কনিষ্ঠ , কোনো কিছুর অভাব কখনোই তাকে প্রত্যক্ষ করতে হয়নি । প্রথম শিক্ষাজীবনে লালমনিরহাট সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেনীতে ভর্তি হন, অত্যন্ত ডানপিটে
গোছের মানুষ তাই তার পিতার আদেশে এবং অনুশাসনের মাত্রা বাড়াতে তাকে সপ্তম শ্রেণীতে গাইবান্ধার শিবরাম স্কুলে ভর্তি করা হয়। সেখানে থেকেই ১৯৯৭-সালে এস এস সি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন। এবার আবার লালমনিরহাট এ ফেরার পালা, ১৯৯৭ সালেই লালমনিরহাট জেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ লালমনিরহাট সরকারী কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক এ ভর্তি হন । আর এখান থেকেই তার রাজনৈতিক হাতেখড়ি। এই ক্যাম্পাসের সবুজ চত্ত্বরে প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশ ঘটান। ১৯৯৯ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন এবং কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন। সেই সালেই ঢাকা কলেজে অনার্সে ভর্তি হন, ঢাকা কলেজের ছাত্র হলেও তার বেশীরভাগ সময় লালমনিরহাটে কাটতো কারন তখন তার শিরায় শিরায় শিক্ষা শান্তি প্রগতির স্রোতধারা বহমান।আওয়ামীলীগ বিরোধীদলে থাকায় যে গুটিকয়েক জন ছাত্রনেতা রাজপথ দাপিয়ে বেড়িয়েছেন আব্দুল খালেক বাবু তাদের অন্যতম একজন। একে একে নয়টি রাজনৈতিক মামলা, পারিবারিক চাপে আবার পাড়ি দিয়েছেন ঢাকায়। ঢাকায় অবস্থান রত লালমনিরহাট জেলার সকল ছাত্রদের নিয়ে গড়ে তোলেন ঢাকাস্থ ছাত্র কল্যাণ পরিষদ। পরবর্তীতে ভোটের মাধ্যমে ঢাকাস্থ ছাত্র কল্যাণ পরিষদ এর সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০৫ সালে ঢাকা কলেজ থেকে মাষ্টার্স পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন। তারপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সেনা শাসন ঘরোয়া রাজনীতি পর্যন্ত বন্ধ। গনতন্ত্রের মানসকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা কে গ্রেফতার করা হলে সেনাবাহিনী ও পুলিশের ব্যারিকেড উপেক্ষা করে দেশরত্ন শেখ হাসিনার মুক্তির দাবিতে যেই গুটিকয়েক জন রাজপথে নেমেছিল আব্দুল খালেক বাবু সেই মিছিলের সম্মুখ সারিতে থাকা অন্যতম একজন। প্রয়াত জহুরুল হক মামুন এবং এরশাদ হোসেন জাহাঙ্গীর লালমনিরহাট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি /সম্পাদক নির্বাচিত হবার পর ওই কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।পরবর্তীতে ২০০৮ সালে লালমনিরহাট জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় সভাপতি নির্বাচিত হন। তার সময়ে স্কুলভিত্তিক বিভিন্ন ইতিবাচক কর্মকান্ডের দ্বাড়া প্রশংসিত হয়েছেন। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ এর সমাবেশে সেরা সুশৃঙ্খল সংগঠন হিসেবে লালমনিরহাট জেলা ছাত্রলীগকে পুরস্কৃত করা হয় । কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ তৎকালীন লালমনিরহাট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল খালেক বাবু এবং সাধারন সম্পাদক মেহেদী হাসান কে শ্রেষ্ঠ সংগঠক হিসেবে মনোনীত হন। ছাত্রবৃত্তি, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ শীর্ষক কুইজ প্রতিযোগিতা, লালমনিরহাট জেলা ছাত্রলীগ কার্যালয়ে জাতীয় নেতা শহীদ এএইচএম কামরুজ্জামান হেনার নামে জেলা ছাত্রলীগ কার্যালয়ে লাইব্রেরী স্থাপন, শহীদ এএইচএম কামরুজ্জামান গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট সহ নানান ইতিবাচক কর্মকান্ডের দ্বারা প্রশংসা কুড়ান।
তার সময়ে লালমনিরহাট জেলা ছাত্রলীগ ইতিবাচক কর্মকান্ডের মাইলফলক রচনা করেন। পরবর্তী তে সাধারন ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি হিসেবে জেলার ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ সংগঠন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এর পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন দুই দুইবার। দ্বিতীয় মেয়াদে পরিচালক নির্বাচিত হয়ে চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির তথ্য প্রযুক্তি উপ কমিটির চেয়ারম্যান মনোনীত হন। আগামী ০৭ই সেপ্টেম্বও ১৯ইং বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ লালমনিরহাট জেলা শাখার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে উক্ত সম্মেলনে সৃষ্টিশীল রাজনীতির ধারক বাহক আব্দুল খালেক বাবু সাধারন সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন।তিনি লালমনিরহাট জেলা যুবলীগের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা কাছে দোয়া চেয়েছেন।









