সিরাজগঞ্জে জীবনের শেষ বয়সে এসে গরুর পরিবর্তে ঘানি টানছেন মগর আলী দম্পতি। যে বয়সে আরাম-আয়াসে থাকার কথা সে বয়সে সংসার চালাতে, স্ত্রী ও প্রতিবন্ধী মেয়ে মমতাকে নিয়ে ঘানি টানেন ।
মগর আলীর বাড়ি সিরাজগঞ্জ পৌর শহরে সয়াগোবিন্দ গ্রামে। প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে স্ত্রী জরিনা বেগম ও প্রতিবন্ধী মেয়ে মমতাকে নিয়ে গরুর পরিবর্তে নিজেরাই শুরু করেন ঘানি টানার কাজ। প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা ঘানি টেনে দশ কেজি সরিষার তেল মাড়াই করেন এই দম্পতি ।
মগর আলীর ২ ছেলে ২ মেয়ে। এরমধ্যে ২ ছেলে বিয়ে করে পাড়ি জমায় ঢাকায়। একজন রিক্সা চালক অন্যজন গ্রার্মেন্টস কর্মী তবে কেউ খোজ রাখেনা পিতা মাতার। এক মেয়ে বিয়ে হলেও অপর মেয়েটি প্রতিবন্ধী। এই দম্পতির নেই থাকার মত কোন জায়গা। সরকারী জায়গায় কোন রকম একটি ঝুপরি ঘর তুলে থাকলেও রোদ উঠলে মুখে পড়ে সূর্যের আলো । বৃষ্টি পড়লে ঘর হয় স্যাতসেতে।
মগর আলীর জীবন কিছু দিন ভালো ভাবে চললেও ঘানি টানার গরুটি মারা যাওয়ায় প্রতিদিন গরুর পরিবর্তে নিজেরাই ঘানি টেনে তেল মাড়াই করেন। সংসারের অবস্থার অবনতী হওয়ায় আর কিনতে পারেননি গরু। কিছুক্ষণ ঘানি টানার পর হাঁপিয়ে যান অসুস্থ স্ত্রী। কান্নাজড়িত কণ্ঠে জরিনা বেগম বলেন ‘বিয়ের পর থেকেই ঘানির জোঙাল ঘাড়ে নিয়েছি। ৩০ বছর ধরে স্বামীর সঙ্গে ঘানি টানছি। আমি খুব অসুস্থ্য কোনো রকম ভাবে কষ্টে বেচেঁ আছি একটি গরুর ব্যাবস্থা আর মরার আগে প্রতিবন্ধী মেয়ে টার দেখভালের মত মানুষ পেলে জীবনে আর কোনো কিছু চাওয়ার নাই।









