, , ,

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • বরিশাল
  • আগৈলঝাড়ায় এক স্ত্রীকে নিয়ে দুই স্বামীর টানাটানি




আগৈলঝাড়ায় এক স্ত্রীকে নিয়ে দুই স্বামীর টানাটানি

মোঃ ইনামুল হাসান নাইম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট ,ঢাকা।

আপডেট টাইম : সেপ্টেম্বর ২৫ ২০১৯, ০৮:৫৮ | 1161 বার পঠিত | প্রিন্ট / ইপেপার প্রিন্ট / ইপেপার

আগৈলঝাড়া প্রতিনিধিঃবরিশালের আগৈলঝাড়ায় পঁচিশ বছর দাম্পত্য জীবন কাটানো নিজেরস্ত্রীকে নিয়ে অন্য আরেকজন অবৈধভাবে সংসার করায় স্ত্রীকে ফিরে পেতে প্রশাসনের কাছে স্বামীরলিখিত অভিযোগ দায়ের।জানা গেছে,উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের যবসেন গ্রামের এনায়েত পাইকের দাম্পত্য জীবনে এই অশান্তি বিরাজ করছে। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও থানা প্রশাসনের কাছে বিচা রের দাবি জানিয়ে স্ত্রী’কে ফিরে পেতে ভুক্তভোগী এনায়েত পাইকের(৭০)দায়ের করা লিখিত অভি যোগ সূত্রে জানা গেছে, গত বিশ বছর আগে পাশ্ববর্তি কোটালীপাড়া উপজেলার বান্ধাবাড়ি গ্রামে র ছোমেদ শেখ এর মেয়ে মেনোকার সাথে তার বিয়ে হয়। এনায়েত পাইক জানান, তার প্রথম স্ত্রী মারা যাবার দুই বছর পর স্বামী পরিত্যাক্তা মেনো কাকে বিয়ে করেন। দাম্পত্য জীবনে তাদের এক মেয়ে, এক ছেলে রয়েছে। মেয়ে বিয়ে দেয়ার পরে ৮/১০ বছরের ছেলে নিয়ে তাকে কিছু না বলে গত তিন বছর আগে তার স্ত্রী মেনোকা এ কই উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের নগরবাড়ি গ্রামের মৃত তালেব খানের ছেলে বেকারী ব্যবসায়ি হাকিম খান (৫৫ )এর সাথে অবৈধভাবে বসবাস করে আসছে।এনা য়েত পাইক অভিযোগে আরও বলে ন, তার স্ত্রী মেনো কা তাকে কোন রকম তালাক না দিয়ে অন্য জনের সাথে অবৈধভাবে বসবাস করে দেশের প্রচ লিত আইন ও শরীয়া আইন বিরোধী কাজ কর ছে। হাকিম খানের সাথে বসবাস করলেও বাকাল ইউনিয়ন পরিষদের ভিজি ডি চাল গ্রহনের সুবিধা ভোগীর তালিকায়ও মেনো কার স্বামীর নাম এনায়েত পাইক লেখা রয়েছে। এনায়েত পাইক অভিযো গের কপি উপ জেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দাস, থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আফ জাল হোসেন, বাকাল ইউপি চেয়ার ম্যান বিপুল দাস, গৈলা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শফিকুল ইসলা ম টিটুকেও প্রদান করে ছেন। নগড়বাড়ি গ্রামের শাহনুর হাওলাদার ধলা, স্থানীয় মেম্বর মশিউর সরদারের উপস্থিতিতে অভিযোগের ব্যাপারে হাকি ম খান ও মেনোকা নিজেদের স্বামী স্ত্রী পরিচয় প্রদান করে জানান, ২০১৬ সালের ২ জুন মেনো কার বাবার বাড়ি কোটালীপাড়া উপজে লার বান্ধা বাড়ি ইউনিয়নের বিবাহ রেজিষ্ট্রারকাজী আব্দুস সামাদ খান মেনোকার বাবা ছোমেদ শেখ এর উপস্থিতিতে দুই লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করা কাবিনের রেজিষ্ট্রারের সত্যায়িত কপি প্রদর্শন করেন। এসময় হাকিম খানকে বিয়ের আগে একই বছর ১৫ ফেব্রুয়ারি পূর্বের স্বামী এনায়েতপাইককে মোনোকা তালাক দিয়েছেন বলে জানান। স্থানীয়রা জানান, হাকিম পাইকের এটা চতুর্থ ও মেনোকার তৃতীয় বিয়ে। এনায়েত পাইক কোন তালাকনামা পাননি বলে জানান। বান্ধাবাড়ি ইউনিয়ন নিকাহ রেজিষ্ট্রার আঃ ছামাদ শেখ এর বাড়ি গেলে তার অনুপস্থিতিতে তার ছেলে বর্তমানে ওই ইউনিয়নের নিকাহ রেজিষ্ট্রার মোঃ নাছির উদ্দিন খান তার বাবার মাধ্যমে তালাকনামা ও নিকাহর কাবিননামা র সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তার বাবা ২০১৬ সালে অবসরে যাওয়ায় ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে তিনি সরকারীভাবে বিয়ে রেজিষ্ট্রারের দায়িত্বে নিযুক্ত হন। উল্লেখিত তারিখে তার বাবার সঙ্গে তিনিও উপস্থিত থেকে উল্লেখিত হাকিম খান ও মেনোকার বিবাহ সম্পন্ন করান। নিকাহ রেজিস্ট্রার দেখতে চাইলে নাসির খান জানান, তার বাবার আমলের সকল ভলিউম গোপালগঞ্জ জেলা রেজি ষ্ট্রারের কার্যালয়ে রক্ষিত আছে। গোপালগঞ্জ জেলা রেজিষ্ট্রার কার্যালয়ের রেকর্ড কিপার নাজমা বেগম জানান, উল্লেখিত তারিখে মেনোকা ও হাকিম খানের বিয়ের কোন রেকর্ড রেজিষ্ট্রার বহিতে নেই। বান্ধাবাড়ি ইউনিয়নের সাবেক কাজী ছামাদ শেখের
ছেলে বর্তমান কাজী নাসির উদ্দিনকে জেলা রেজি ষ্ট্রারের রেকর্ড কিপার নাজমা বেগমের বক্তব্য “ভলিউমে বিয়ের রেকর্ড না” থাকার কথা জানা লে নাসির সময় চেয়ে বলেন, তিনি ভলিউমদেখে কাবিনের কপি পরে দেখাবেন !উল্লেখ্য, আগৈল ঝাড়া উপজেলায় নিকাহ রেজিষ্ট্রারেরা এলাকায় বাল্য বিয়ে পড়াতে অস্বীকৃতি জানালে ওই বাল্য বিয়ের বর-কনের অভিভাবকেরা পাশ্ববর্তি কোটালী পাড়ার বান্ধাবাড়ি এলাকার নিকাহ রেজিষ্ট্রার দিয়ে বাল্য বিয়ে সম্পন্ন করানোর বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাত অভিযোগ প্রাপ্তির সত্য তা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি প্রথমে সামাজি কভাবে দেখার দায়িত্ব দেয়া হবে। সমাধান হলে ভালো না হয় আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দাস বলেন, অভিযো গের কপি তিনি হাতে পান নি। অভিযোগ পেলে আইন গত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান তিনি। আগৈ লঝাড়া থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ আফজাল হোসেন বলেন, এরকম একটি অভিযোগ পেয়ে এসআই জামাল হোসেনকে তদন্তের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।এসআই জামাল হোসেন জানান,উভয় পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছে। তাদের কথা শুনে, কাগজপত্র দেখে পরবর্তি ব্যবস্থা নেয়া হবে। বাকা ল ইউপি চেয়ারম্যান বিপুল দাস জানান, তিনি মেনোকাকে ভিজিডি কার্ড দেন নি। পূর্ববর্তি ইউ এনওর শুপারিশে এনায়েত পাইকের স্ত্রী হিসেবে মেনোকা ভিজিডি কার্ড উত্তোলন করছে। চাল উত্তোলন করে এনায়েতকে অর্ধেক দেয়া হয় আর অর্ধেক মেনোকা নেয়।

এস এম শামীম,
আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি,

Please follow and like us:

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

 

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৬০১৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত।

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET