৯ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, ২৬শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২২শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • বিশেষ প্রতিবেদন
  • নাঙ্গলকোটে ভুয়া পদত্যাগপত্রে মাদ্রাসা নৈশপ্রহরী’র এমপিও বাতিল, সুপারের বিরুদ্ধে অধিদপ্তরে অভিযোগ 




নাঙ্গলকোটে ভুয়া পদত্যাগপত্রে মাদ্রাসা নৈশপ্রহরী’র এমপিও বাতিল, সুপারের বিরুদ্ধে অধিদপ্তরে অভিযোগ 

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, নয়া আলো।

আপডেট টাইম : জুন ০৮ ২০২৬, ২৩:২৭ | 620 বার পঠিত | প্রিন্ট / ইপেপার প্রিন্ট / ইপেপার

১লাখ ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে ২০১৩ সালে কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের শ্যামপুর এখলাছিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় আপন ভাই আবুল হাশেমকে নৈশপ্রহরী নিয়োগ দেন ওই মাদরাসা সুপার মাওলানা আবুল খায়ের। ভুক্তভোগী আবুল হাশেম বাঙ্গড্ডা ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের মরহুম হাজী মুখলেসুর রহমানের ছেলে। নৈশপ্রহরী আবুল হাশেম ২ কন্যা সন্তানের জনক, তার কোন ছেলে না থাকায় হাশেমের মূল্যবান জমির দিকে নজর পড়ে সুপার মাওলানা আবুল খায়েরের। এ নিয়ে দু’ ভাইয়ের মধ্যে মনোমালিন্য শুরু হয়। জমিজমার বিরোধের জেরে শ্যামপুর এখলাছিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা সুপার মাওলানা আবুল খায়ের তার অধীনস্থ আপন ভাই আবুল হাশেমের ভুয়া স্বাক্ষর দিয়ে মাদরাসা অধিদপ্তরে পদত্যাগ পত্র জমা দিয়ে আবুল হাশেমের এমপিও বাতিল করে দেয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আবুল হাশেম মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করে নিজের চাকুরী ফেরত পাওয়ার আবেদন ও অভিযুক্ত সুপার মাওলানা আবুল খায়েরের শাস্তির দাবি জানান। এছাড়াও শ্যামপুর এখলাছিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা সুপার মাওলানা আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে পূর্বেও স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে, সুপার মাওলানা আবুল খায়ের মাদ্রাসা সাবেক সভাপতি বাংগড্ডা ইউনিয়ন পরিষদ সাবেক চেয়ারম্যান এয়াকুব আলী মজুমদারের স্বাক্ষর জাল করে বিল উঠিয়ে নেয়।
ভুক্তভোগী আবুল হাশেম বলেন, ২০১৩ সালে ১লাখ ৫০হাজার টাকা নিয়ে আমার নতুন একটি জন্মসনদ তৈরি করে আমাকে নিয়োগ দেয় আমার আপন ভাই সুপার মাওলানা আবুল খায়ের। নিয়োগের ঘুষের প্রথম ৫০ হাজার টাকা সে আমার মায়ের হাত থেকে নিয়ে কোরবানির গরুক্রয় করে। এরপর পর্যায়ক্রমে সে আমার নিকট থেকে ১লাখ ৫০হাজার টাকা ঘুষ নেয়। নিয়োগের সময় আমাকে বলে ২০৪৩ সাল পর্যন্ত চাকুরী করতে পারবো। পরে তার সাথে আমার জমি নিয়ে বিরোধ শুরু হওয়ায় সে ভুয়া স্বাক্ষর দিয়ে আমার পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে এমপিও বাতিল করে দেয়। ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত এমপিও-তে আমার নাম ছিলো, এপ্রিল মাস থেকে নাম বাতিল হয়ে যায়। আমি মাদ্রাসা অধিদপ্তরে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে আমার চাকুরী ফেরত চাই এবং সুপারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।
অভিযুক্ত শ্যামপুর এখলাছিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা সুপার মাওলানা আবুল খায়ের বলেন, ২০২৪ সালে আবুল হাশেমের বয়স ৬০ বছর উত্তীর্ণ হয়েছে। ফলে সে কল্যাণ ভাতা পাওয়ার জন্য পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছে।
২০২৪ সালে তার বয়স ৬০ বছর হয়ে গেলে ২০১৩ সালে আপনি ৪৯ বছর বয়সে তাকে কিভাবে নিয়োগ দিলেন এবং বয়স শেষ হলে পদত্যাগপত্র  দিতে হয় কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাব না দিয়ে সুপার উত্তেজিত হয়ে বলেন আপনারা নিউজ করেন আর যাই করেন, আমার কোন সমস্যা নেই।
এ ব্যাপারে শ্যামপুর এখলাছিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা সভাপতি মাঈন উদ্দিনের ফোনে একাধিক বার ফোন দিয়ে না পাওয়ায় ও তিনি দেশের বাহিরে অবস্থান করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
মাদ্রাসা সাবেক সভাপতি বাংগড্ডা ইউনিয়ন পরিষদ সাবেক চেয়ারম্যান এয়াকুব আলী মজুমদার বলেন,  আমার স্বাক্ষর জালিয়াতি করে সুপার মাওলানা আবুল খায়ের বিল উঠিয়ে ফেলে, এনিয়ে উপজেলা ও স্থানীয় ভাবে মিমাংসা হয়, সে ক্ষমা চায়। বিষয়টি অনেক পূর্বের, তাই এবিষয়ে আমাকে না জড়ানোর অনুরোধ করছি।
নাঙ্গলকোট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। আমার মনে হচ্ছে এ নিয়োগ ও পদত্যাগ উভয় বিষয়ে সমস্যা থাকতে পারে। সুপারের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে মাদ্রাসা অধিদপ্তর অবশ্যই তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
Please follow and like us:

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

 

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৬০১৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত।

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET