যশোরের কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানূর রহমানের কর্মদক্ষতায় বিগত ২ বছর ৩ মাসে উপজেলার সকল সেক্টরে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে। বর্তমানে তাঁকে মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসাবে বদলী করা হয়েছে। আগামী রবিবার তিনি মোহাম্মদপুর উপজেলায় যোগদান করবেন বলে জানাগেছে।
মোঃ মিজানূর রহমান ২০১৭ সালের আগস্ট মাসের শেষের দিকে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসাবে যোগদান করেন। যোগদান করেই তিনি এক মাসের একটি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তৎকালীন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ও কেশবপুরের সাংসদ ইসমাত আরা সাদেক- এর নির্দেশনা অনুযায়ী সকল সেক্টরে উন্নয়নে সচেষ্ট হন। তিনি ইতিমধ্যে উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনেন এবং প্রতিটি পরীক্ষা নকল মূক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে সকল সমস্যা চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে ঐ সকল সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট হয়েছেন। অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভবন নির্মাণ করেছেন, সিসি ক্যামেরা ব্যবস্থা করেছেন, ডিজিটাল হাজিরার ব্যবস্থা করে শিক্ষা ব্যাবস্থার আমূল পরিবর্তন করেছেন।
কেশবপুরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণে সার্বক্ষণিক তদারকীর মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে নদী ও খাল খননের ব্যবস্থা করেছেন।
যোগাযোগের ক্ষেত্রেও আমুল পরিবর্তন সাধন করেছেন। উপজেলা ব্যাপী অসংখ্য সড়ক পাঁকা করণ হয়েছে। সুষ্ঠু তদারকির মাধ্যমে সড়ক নির্মাণ কাজ মানসম্মত হয়েছে। সড়কগুলি যাতে ভেঙ্গে না যায় তার জন্য ঘের মালিকদের দিয়ে আলাদা ভেড়ি নির্মাণ করিয়েছে।
উপজেলা ব্যাপী অন্ধকার এলাকায় সোলার লাইটের ব্যবস্থা করেছেন। শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় তিনি আগরহাটী ও সন্যাসগাছা আশ্রয় কেন্দ্রের প্রতিটি ঘরে সোলার ব্যবস্থা করেছেন।
মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সপ্তাহ ব্যাপী মধুমেলায় অশ্লীলতা দূর করে সুস্থ্য সাংস্কৃতি চালু করেছেন। সকল জাতীয় দিবস-সহ অন্যান্য দিবস গুলি উৎসব মুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি ইতিমধ্যে উপজেলা পরিষদকে নান্দনিক করে গড়ে তুলেছেন। উপজেলা পরিষদের ২টি সভাকক্ষ অত্যধুনিক করেছেন। উপজেলার প্রাচীর ও ভবন সমূহ সংস্কার করেছেন। শোভা বর্ধনে উপজেলা পরিষদে ফুলের বাগান নির্মাণ করেছেন। রং-বেরংয়ের বাতি লাগিয়েছেন। পোষ্টার- লিফলেট লাগানোর জন্য উপজেলা পরিষদ সম্মুখে আলাদা ওয়াল তৈরী করেছেন।
জেলা পরিষদের অর্থায়নে একটি নান্দনিক শহীদ মিনার তৈরী হয়েছে।
দরিদ্রেদের জন্য বয়স্ক, বিধবা, স্বামী পরীত্যক্ত, মাতৃত্ব, প্রতিবন্ধী ভাতা-সহ সকল প্রকার ব্যবস্থা করেছেন। গৃহহীনদের জন্য বাড়ি নির্মিত হয়েছে। অসংখ্য ভিক্ষুককে স্বালম্বী করেছন।
পাবলিক ময়দানকে একটি আর্ন্তজাতিক মান দিয়ে সার্বক্ষণিক ফুটবল, হকি-সহ অসংখ্য টুর্নামেন্টের ব্যবস্থা করেছন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্লাব-সহ অনংখ্য সংগঠনে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেছেন।
বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে কার্যকারী পদক্ষেপের মাধ্যমি তিনি উপজেলা থেকে বাল্যবিবাহ মুক্ত করেছেন। ইভটিজিং প্রতিরোধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
উপজেলা থেকে মাদকমুক্ত করার জন্য অনেক কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
খাদ্যদ্রব্য ভেজাল মুক্ত করার জন্য অসংখ্য ভেজাল বিরোধি অভিযান পরিচালনা করেছেন।
ভোক্ত অধিকার আইন বাস্তবায়নে অসংখ্য অভিযার পরিচালনা করেছেন।
স্বাস্থ্য সেক্টরেও তার সজাগ দৃষ্টি ছিল। স্বাস্থ্য সেবায় কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দেশের মধ্যে ২য় স্থান অধিকার করেছে।
কৃষি সেক্টরেও তাঁর সজাগ দৃষ্টি রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ অব্যহত রয়েছে এবং কৃষকদের সাথে তিনি নিয়মিত মতবিনিময় করতেন।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ ও স্বল্প সূদে লোন বিতরণ তাঁর নেতৃত্বে চলমান ছিল।
এছাড়া পৌরসভার সহায়তায় তিনি ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন করে কেশবপুর শহর থেকে যানজট নিরসন করেছেন। যা তিনি নিজে প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ করে থাকেন।
একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প, মৎস্য দপ্তর, প্রাণীসম্পদ দপ্তর, সমাজসেবা দপ্তর, সমমায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তর-সহ সকল দপ্তরের প্রতি তাঁর সজাগ দৃষ্টি ছিল।
তাছাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মিজানূর রহমানের নেতৃত্বে সকল দপ্তরের কর্মকর্তারা জনসাধারণের জন্য সর্বোচ্চ সেবা প্রদান করে চলেছেন।
এদিকে বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মিজানূর রহমানকে মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসাবে বদলী করা হয়েছে। তাঁকে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসাবে রাখার দাবীতে শহরে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য প্রতিষ্ঠান তাঁকে ফুলে শুভেচ্ছা জানানো-সহ শুভেচ্ছা উপহার প্রদান অব্যহত রয়েছে। নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুসরাত জাহান বৃহস্পতিবার যোগদান করেছেন।
আগামী রবিবার মোঃ মিজানূর রহমান মোহাম্মদপুর উপজেলা নির্বহী অফিসার হিসাবে যোগদান করবেন বলে জানাগেছে।









