নাম ঈশা খান। সাংস্কৃতিক রাজধানী কুষ্টিয়ার ছেলে। কুষ্টিয়া জিলা স্কুল থেকে ২০১১ সালে এসএসসি এবং কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ থেকে ২০১৩ সালে এইচএসসি পাস করেন। বর্তমানে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজেই (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়) গণিত বিভাগে পড়াশোনা করছেন। একই সাথে আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়াতে অবস্থিত ‘ইউনিভার্সিটি অফ দা পিপল’ থেকে ডিস্টেন্স লার্নিং-এ শিক্ষা গ্রহন করছেন। ২০০৮ থেকে তার অর্গানাইজেশন ক্যারিয়ার শুরু হয় ‘মাস মিডিয়া কমিউনিকেশন্স (এমএমসি)’ এর মাধ্যমে। এরপর কুষ্টিয়া শহরের অন্যতম স্বেচ্ছাসেবামূলক সংগঠন ‘কালপুরুষ’ এর সাথে যুক্ত হন। প্রায় একই সময়ে যুক্ত হন ‘কুষ্টিয়া ফিল্ম সোসাইটি’তে। এখানেই ধীরে ধীরে এগিয়ে চলতে থাকে তার সংগঠন জীবন।
২০১২ সালে ১২ ডিসেম্বর আর সবার মত তিনিও ’১২.১২.১২’ তারিখটিকে স্মরণীয় করে রাখতে চেয়েছিলেন। সেই দিনেই কয়েকজনকে সাথে নিয়ে অল্প সংখ্যক কিছু টাকা জোগাড় করে তার পুরোটা দিয়েই একটি পরিবারকে সহযোগিতা করেন। তার ভাষ্যমতে— “আমার কাছে এটা নিছক একটা চেষ্টা ছিল মাত্র এবং আমি জানতামও না এটার রেজাল্ট কী হবে। আমি নিজে আনন্দ পেয়েছিলাম। আমার মনে হয়েছিল, যা করেছি ভালো কিছুই করেছি। তখন অনেক ছোট ছিলাম। আমারও তখন ইচ্ছে করেছিল আমার সৃষ্টিতেই একটা সংগঠন থাকবে। অনেকটা ইম্যাচিউর চিন্তা-ভাবনা থেকেই তার নাম দিয়েছিলাম ‘ইউথ নেটওয়ার্ক’। তখনও আমি বুঝি নি যে এই ‘ইউথ নেটওয়ার্ক’ আমার জন্য সফলতা বয়ে আনতে পারে।
তখন থেকেই ‘ইউথ নেটওয়ার্ক’কে নিয়ে খুব নীরবেই কাজ করে যান। এর উদ্দেশ্য জানতে চাইলে তিনি বলেন— “আমি ‘সাসটেনেবিলিটি’ এর চাইতে ‘ইফেক্টিভ’ শব্দটা বেশি পছন্দ করি। একেবারে তারছেঁড়া আইডিয়াগুলোকে দৃশ্যমান করতে চেয়েছি, এখনও তাই চাই। কাউকে সাময়িকভাবে খুশি করা কিংবা সাময়িক প্রয়োজন মেটাতে চাই না। বরং যে উদ্যোগটা নেবো, তাতে যেন কারোর লাইফটাইম কোনো একটা চেঞ্জ আসে, এই ব্যবস্থা করতে চাই। আবার ব্যাপারটা এমন নয় যে কারোর সারাজীবনের ভার আমি নেবো। তাই উদ্যোগগুলো এমন হবে যেন একটা পদক্ষেপের মাধ্যমেই কারোর ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত হবার দ্বার উন্মোচিত হবে কিন্তু সেটা ভবিষ্যতে আমাদের সহযোগিতা ছাড়াই। এজন্য শুধু পদক্ষেপ না, পদক্ষেপের পেছনেও মাথা খাঁটিয়ে খাঁটিয়ে দারুণ আইডিয়া বের করতে হয়। এটাই আমার স্বপ্ন, ইচ্ছে, ভালোলাগা, লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য।
সাংগঠনিক ভিত্তিতে বর্তমানে বাংলাদেশে এবং দেশের বাইরে প্রচুর এ্যাওয়ার্ড পাচ্ছে মানুষ। ঈশা খানও ২০১৭ সালে ১৩ অক্টোবর ‘সিওএফ ন্যাশনাল ইন্সপিরেশন এ্যাওয়ার্ড ২০১৭’ পান ক্রিয়েটিভি এন্ড কমিউনিটি ট্রান্সফরমেশন ক্যাটাগরিতে। কিন্তু সাংগঠনিক প্রেক্ষাপটে এ্যাওয়ার্ড না পাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন— “আমি এ্যাপ্লাই করলে তবে না এ্যাওয়ার্ড পাওয়ার প্রশ্ন আসে। এই এ্যাওয়ার্ড, মার্কেটিং, ব্র্যান্ডিং, এগুলো নেশার মত। আর এই নেশার কারণে সংগঠনের কাজ মূল কাজ থেকে ছিটকে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই আমি এসব কখনই করি নি। এমন কি কোনো পদক্ষেপের পর প্রেস রিলিজও দিই নি। এখানে যে কাজগুলো করা হয়েছে, তার বেশির ভাগ অর্থই আমার নিজের। আর আমার কাজগুলো আহামরি টাকার ব্যাপার না। কারণ, আমি আইডিয়াকে বেইজ করে কাজ করি। এর মধ্যে একবার ২০১৭ সালে একটা কোম্পানির সিএসআর প্রোজেক্ট করেছিলাম ‘ইউথ নেটওয়ার্ক’ থেকে। কিছু কিছু মানুষ অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন কিন্তু তার পরিমাণও খুব বেশি নয় এবং তাদেরকে আমি আগেই বলে রেখেছিলাম যে কোনো প্রচার হবে না। এরপরেও যদি তিনি অর্থ সহযোগিতা করতে চান, তবে সেটা তার ব্যক্তিগত ইচ্ছে। যদিও এই কথার পরে টাকার অঙ্কও বদলে যায় (এই বলেই তিনি হেসে ফেলেন)”
এই ‘ইউথ নেটওয়ার্ক’এর কার্যক্রমের পরিধির উপর ভিত্তি করেই তিনি পৌঁছে গেছেন আন্তর্জাতিক মহলগুলোতে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালেই ঈশা খান Theirworld এর ‘Global Youth Ambassador’ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে। তার মেয়াদ ছিল ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু মেয়াদ শেষ হবার আগেই, অফিসিয়ালভাবেই মেইলের মাধ্যমে তাকে পুনরায় ‘Global Youth Ambassador’ এর প্রস্তাব দেয়া হয়। একই সাথে তাকে ‘Theirworld’ এর আন্তর্জাতিক কমিউনিটিতে স্থায়ীভাবে যুক্ত করে নেয়া হয়।
সাংগঠনিক পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি একজন ব্র্যান্ড মার্কেটিং এ্যাক্টিভিস্ট। ২০১০ সাল থেকেই তিনি গ্রাফিক্স ডিজাইনে চর্চা শুরু করেন। এরপর ২০১২ সাল থেকে ডিজিটাল মিডিয়া মার্কেটিং নিয়ে ছোট ছোট করে এগোতে থাকেন। গড়ে তুলেছেন নিজের ক্রিয়েটিভ এজেন্সি ‘Ideago Corporations Bangladesh’। এছাড়াও তিনি উপস্থাপনা শুরু করেন ২০০৮ সাল থেকে। একই সাথে চর্চার বাইরে হলেও, গানও গাইছেন বেশ অনেক দিন ধরেই। বহুমুখী প্রতিভার এই মানুষটির সাংগঠিক পরিচয়ের বাইরেও রয়েছে আরও সফলতার গল্প। সে গল্পগুলো হবে অন্য একদিন।
( নিউজ সম্পাদনায় হাফিজা আক্তার)









