সমাজে এমন কিছু মানুষ আছে, যাদের অস্তিত্ব আছে কিন্তু জায়গা নেই। ওরা আর সব সাধারণ শিশুর মতো নয়। এ বয়সে ওদের কেউ মায়ের কোলে, কেউ স্কুলে থাকতে পারত। থাকতে পারত পরিবারের অটুট বন্ধনে। কিন্তু নিয়তির ফেরে এসব কিছুই পাওয়া হয় না ওদের। ওরা রাস্তায় ঘুমায়। পথে পথে ঘোরে। ক্ষুধার দায়ে রাস্তায়ই বেছে নেয় জীবিকার পথ। ওরা টোকাই, ওরা ছিন্নমূল পথশিশু। কেনই বা ওরা পথশিশু? ওদের জন্য রাষ্ট্র-সমাজের করণীয় কী? সামাজিক এ সমস্যার সমাধানই বা কোন পথে?
দিনের শেষে নগরে যখন রাত্রি নামে তখন নগরবাসী ব্যতিব্যস্ত হয়ে নীড়ের খোঁজে ঘরে ফেরে। যাদের মাথার তলায় ছাদ নেই, সেই বাস্তুহীন, ছিন্নমূল মানুষেরা নীড় রচনা করার জন্য জায়গা খুঁজে নেয় সুরম্য অট্টালিকার বারান্দা, ফুটপাথ, নয়তো পথের ধারে। এদের দেখা মেলে নগরের সর্বত্র। বেঁচে থাকার সব উপকরণ তো নয়ই, শীত নিবারণের প্রয়োজনীয় বস্ত্রও মেলে না এসব বাস্তুহীন মানুষের।
ঢাকার রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে যে পথশিশুদের চোখে পড়ে, সেই শিশুরা সারা পৃথিবীর ১২০ মিলিয়ন পথশিশুদের একটি অংশ। জীবন আর জীবিকার তাগিদে রাস্তায় নামা এই বিপুল সংখ্যক শিশুদের মৌলিক অধিকারটুকুরও কোনো নিশ্চয়তা নেই। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৮ বছরের নিচে যেসব শিশু রাস্তায় দিনাতিপাত, নিজেদের কোনো স্থায়ী আবাসস্থল নেই, তাদেরকেই পথশিশু বলা যেতে পারে। ২০১৫ সালের হিসেব অনুযায়ী, বাংলাদেশে পথশিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ লাখে। এর মধ্যে আড়াই থেকে তিন লক্ষাধিক পথশিশু রাজধানী ঢাকার পিচঢালা পথের দুষ্টচক্রে বাঁধা পড়ে গেছে।
পথশিশুরা ক্ষুধার জ্বালা, একাকিত্বের কষ্ট বা সঙ্গ দোষে তারা নানা ধরনের মাদক নিচ্ছে। এমন এক মাদক ড্যান্ডি। ড্যান্ডি সেবনের বিষয়ে রমনা পার্ক এলাকার এক পথশিশু বলে, ‘ক্ষুধা লাগে। ড্যান্ডি খেলে ঝিমুনি আসে, ঘুম আসে। তখন ক্ষুধার কথা মনে থাকে না।’ বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের তথ্যমতে, পথশিশুদের ৮৫ শতাংশই প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে মাদকে আসক্ত।









