নাতিশীতোষ্ণ বাংলাদেশে শীতের আগমন জানান দিচ্ছে। প্রকৃতির হিসাব অনুযায়ী শীত ঋতু আসতে এখনও অর্ধমাস বাকি। ঘাসের ডগায় শিশির বিন্দু আর খেজুর গাছে ঝুলতে শুরু করেছে রসের হাঁড়ি । পৌষ আসার আগেই হিমেল হাওয়া জানান দিচ্ছে শীত নিকটেই। দিনের তাপমাত্রা এখন আর আগের মতো নেই। প্রতিদিনই তাপমাত্রার পারদ নিচে নেমে আসছে। বাতাসে কমছে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতি। সেই সঙ্গে কমছে আর্দ্রতাও। ঘাসের ওপর শিশিরবিন্দু আর খেজুর গাছে রসের হাঁড়ি জানান দিচ্ছে উত্তুরে শীতের আগমনী বার্তা। দিনের বেলা গরম থাকলেও মাঝরাত ও ভোরে অনুভূত হয় হালকা শীত।
প্রকৃতিতে শীত যেন একটু একটু করে উকি দিচ্ছে। শিশিরে ভিজে লাল টকটকে হয়ে ওঠে লাল গোলাপ। ধানের পাতায় শিশিরবিন্দু গুলো সকালের আলোয় ঝলমল করে উঠে। শিশিরগুলো যেন মুক্তোর দানার মতো। শীতের শুস্ক-রুক্ষ প্রকৃতির অপবাদ ঘোচাতে এ সময় গাঁদা, মল্লিকা, গোলাপ, ডালিয়া, কসমস ফিরে পায় পূর্ণ জৌলুস; গাঢ় হয় কলাপাতার রঙ। বাতাসে হিমের ছোঁয়া, গাঁ শিরশির করে। ঘাঁসের ওপর শিশির জমে থাকে। রাতের বেলায় টিনের চালে টুপটাপ ঝরে। ভোরে লেপ-কম্বলের উম ফেলে উঠতে পারলেই দারুন উপভোগ্য হয়ে উঠবে মৌসুমের প্রথম শীতের সকালগুলো।
গ্রামীণ জনপদের জলাশয় গুলোতে শোনা যাচ্ছে অতিথি পাখির কলরব ও ডানা ঝাপটানোর মধুর আওয়াজ। প্রকৃতিতে গাছের গাঢ় সবুজ পাতা গুলো দিনদিন খয়েরি-কালে রূপ ধারণ করছে। শুরু হবে পাতা ঝরার পালা। শীতের আগাম বার্তা যেন আমাদের গরম গরম ভাপা পিঠার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। শীতের হলুদ বর্ণের সরিষার ফুল এবং খেজুরের রস যেন আমাদের আরও তৃষ্ণার্ত করে তুলেছে।
শীতকালীন সবজি নিয়ে মহাব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে কৃষকরা। কেউ নুতন ভাবে বিচ রোপন করছে কেউ আবাদ করছে, আবার কেউ আগাছা পরিস্কার করে কীটনাশক প্রয়োগসহ পরিচর্যা করছে, কেউ কেউ আগাম উৎপাদিত সবজি বাজারে নিয়ে যাচ্ছে। হাট-বাজারেও আসতে শুরু করেছে শীতকালীন সবজি যেমন মুলাশাক, লালশাক, সরিষাশাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, বেগুন, শিম, লাউ, শসা, বরবটি, টমেটো, গাজর, দেশি মরিচ ইত্যাদি।
ইতিমধ্যে গরম কাপড়ে মার্কেট, বিপনী বিতানের দোকান সম্মুহ ভরে উঠেছে, জ্যাকেট,সোয়েটার,শাল, মাফলার, কম্বল, হাত-পায়ের মোজা ওলের টুপি থরে থরে সাঁজিয়ে রেখেছে দোকানিরা, অপেক্ষা কন-কনে শীত থেকে বাচাঁর জন্য আগত ক্রেতা সাধারনের। গরিব নিম্মবৃত্তদের জন্য পুরাতন কাপড়েই ভরসা তাই তারা ছুটছে রাস্তার পার্শের দোকান খুলে বসা মৌসুমী শীতবস্ত্র বিক্রেতাদের কাছে। স্টেশনারী ষ্টোরে মজুদ করা হয়েছে শীতের নানান প্রসাধনী লীপজেল বিভিন্ন ধরনের ক্রীম, পেট্রোলিয়াম জেলী, লোশন নেই কোন জুড়ী,।
শীত এলে ঘুরতে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। শীতকালকেই ভ্রমণের উপযুক্ত মনে হয়। শীতকালীন ছুটি উপলক্ষে অনেকেই দেশে এবং দেশের বাইরে ভ্রমণে যান। শীতে পরিবারকে নিয়ে দূরে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার জন্য সারা বছর অপেক্ষা করে সবাই। ব্যাস্ত জীবনে কিছুটা আনন্দ সবাই চায়। শীতে স্কুল কলেজ গুলো বন্ধ থাকে বিধায় একটা ছুটির আমেজ থাকে। আর ভ্রমণের জন্যেও শীতের আবহাওয়া বেশ উপযোগী। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টান স্টাডি-ট্যুরের জন্যে এই সময়টাই বেছে নেয়। বিনোদন ও মানসিক প্রশান্তির জন্যে কর্মস্থল থেকে সবাই মিলে শীতে পিকনিক করা খুব সাধারণ ব্যপার হয়ে গেছে। সামনে শীত ঘুরে আসুন আপনার পছন্দের জায়গা থেকে।
ঋতু পরিবর্তনের সময় রোগব্যাধির প্রকোপ দেখা যায় । বেশি দেখা দেয় ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত সবার সর্দি-কাশি বা কমন কোল্ড। বিশেষ করে শীতের শুরুতে তাপমাত্রা পরিবর্তনের সময়টাতেই এর প্রাদুর্ভাব বেশি। প্রায়ই দেখা যায় দুই তিন দিন নাক বন্ধ থাকে বা নাক দিয়ে পানি ঝরে। তাই এই সময়টাতে সবাইকে একটু সতর্ক থাকতে হবে। শীতকালে সবচেয়ে বড় সমস্যার ঠান্ডা জনিত রোগ বযস্কদের শ্বাষকষ্ট, ছোটদের নিয়মোনিয়া, হাপাঁনী, এ্যজমা, চুলকানী, সর্দি-কাশি, হাত-পা ফাঁটা সহ বিভিন্ন রোগ দেখা দিতে পারে। আমাদের উচিত সকল বিষয়ে সচেতনাতা অবলম্বন করে সতর্ক থাকা। শত সমস্যার মাঝেও আনন্দ, শীত আসছে আমাদের মাঝে।









