খোকন হাওলাদার, বরিশাল প্রতিনিধিঃ- “তিনজন মেয়র দেখছি; এরমধ্যে হিরন ছাড়া মোগো কতা কেউ ভাবেনায়। সরোয়ার যহন মেয়র আছিলো তহন মোরা আছিলাম বস্তিতে, হিরনের সময় বস্তি ভাইঙ্গা মোগো কলোনী কইরা দেছে। এ্যাহনকোর মেয়র কামালরেতো চোহে-ই দেহিনায়। মার্কা দিয়া মোরা কি করমু। যে মোগো ভাইগ্যের উন্নতি করবে, হিরনের মতো হক্কলসময় যারে কাছে পামু হেরেই ভোট দিমু”। কথাগুলো বলছিলেন, বরিশাল নগরীর বাংলাবাজার রিফিউজি কলোনীর বাসিন্দা বৃদ্ধ সেতারা বেগম। একথা শুধু সেতারা বেগমের একারই নয়; প্রায় একইধরনের কথা বলেছেন, নগরীর পলাশপুর ও রসুলপুর কলোনীসহ ৩০টি ওয়ার্ডের অধিকাংশ খেটে খাওয়া দিনমজুর থেকে শুরু করে সাধারণ ভোটাররা।
৩০ জুলাই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে প্রথম নগরপিতার নির্বাচন করছেন প্রাচ্যের ভেনিসখ্যাত বরিশাল নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের ভোটাররা। প্রচারণার শেষ সময়ে দম ফেলার ফুসরত নেই ছয়জন মেয়র, ৯৪জন সাধারণ ও ৩৫জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীদের। এরইমধ্যে গত দু’দিন ধরে প্রার্থীদের প্রচারনায় অনেকটা বাঁধ সেধেছে কখনও গুড়ি গুড়ি আবার কখনও মুষলধরের বৃষ্টি। নৌকার প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বৃষ্টির মধ্যেও নগরীর বাংলাবাজার এলাকার রিফিউজি কলোনীতে নির্বাচনী প্রচারনা চালিয়েছেন। এবারই সর্বপ্রথম কোন এক মেয়র প্রার্থীকে মুষলধরের বৃষ্টিতে ভিজে প্রচারনা চালাতে দেখে আবেগ আপ্লুত হয়ে পরেন সাধারণ ভোটাররা। সাদিক আব্দুল্লাহর প্রচারনাকে ঘিরে সাধারণ ভোটাররাও যোগ্য নগরপিতা আখ্যাদিয়ে সাদিককে নিয়ে আলোচনায় মেতে উঠেছেন।
বরিশালে মেয়র পদে মূল লড়াই হবে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার তরুন প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর সাথে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ মার্কার প্রার্থী ও সাবেক সিটি মেয়র মজিবর রহমান সরোয়ারের। নগরীর সাধারণ ভোটারদের মতে, লড়াই নৌকা কিংবা ধানের শীষে নয়। লড়াই মূলত জমে উঠেছে প্রধান দুই দলের অতীত উন্নয়ন কর্মকান্ড ও প্রার্থীর ব্যক্তি ইমেজের ওপর। সেদিক থেকে এগিয়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। কারণ তার দলের মনোনীত মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরন দ্বিতীয় পরিষদের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর বরিশাল নগরীতে সবচেয়ে বেশি উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। আর বিএনপি মনোনীত বর্তমান মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র। এছাড়াও তিনি (সরোয়ার) বরিশাল-৫ সদর আসনের চারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য। সরোয়ার বিএনপি সরকারের আমলে হুইপ ও বরিশাল অঞ্চলের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তৃতীয় পরিষদের নির্বাচনে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত বর্তমান মেয়র আহসান হাবিব কামাল। বিএনপির দুই মেয়রের সময় বরিশাল নগরীতে দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন হয়নি। তাই উন্নয়নের প্রশ্নে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন নৌকার প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।
আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে জাপার সমর্থন ॥ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে সমর্থন দিয়েছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। বুধবার জাপার চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এই সমর্থন ঘোষণা করেন। এরশাদের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারী খন্দকার দেলোয়ার জালালী স্বাক্ষরিত এক বার্তায় এ তথ্য জানা গেছে। জাপার মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বরিশাল মহানগর ও জেলা কমিটির সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে নৌকা প্রতীকের পক্ষে একযোগে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি (জাপা মহাসচিব) জনকন্ঠকে বলেন, একটি আধুনিক বরিশাল সিটি কর্পোরেশন বিনির্মাণ এবং দক্ষিণাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের এই সিদ্ধান্তে বিভ্রান্তির কোনো অবকাশ নেই। বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নৌকা মার্কার প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে বিজয়ী করতে জাপা নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে আওয়ামী লীগের পাশে থেকে কাজ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি।









