জলাতঙ্ক রোগ প্রধানত কুকুরের কামড় বা আঁচড়ে ছড়ায়। এ এক মরণব্যাধি। এই রোগ নিয়ে জনমনে আতঙ্ক রয়েছে। সেই আতঙ্ক থেকেই কুকুর সম্পর্কে মানুষের বিরূপ ধারণা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ; ২০২২ সালে জলাতঙ্ক মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে কর্মসূচী নিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ,জাতীয় জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ এবং নির্মূল কর্মসূচীর আওতায় শুরু হয়েছে ব্যপক হারে কুকুরকে টিকাদান কর্মসূচী। ইতিমধ্যে ৩৬ টি জেলায় এই কর্মসূচী’র বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন হয়েছে।
এরি ধারাবাহিকতায় খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও যশোর ,কুষ্টিয়া তে শুরু হয়েছে ব্যপক হারে কুকুরকে টিকাদান কর্মসূচী। এই কর্মসূচীর আওতায় ২০১৯, ২০২০ ও ২০২১ সালে তিন ধাপে গৃহে পালিত কুকুর ও বেওয়ারিশ কুকুরকে টিকা প্রদান করা হবে। এবং এক বছর পর কুকুরের রক্ত পরীক্ষা করে দেখা হবে তাতে জলাতঙ্ক রোগের ভাইরাস প্রতিরোধক হয়েছে কিনা?এই প্রক্রিয়াই জলাতঙ্ক রোগের পরিমান কমিয়ে আনা হবে। কারন কুকুরের কামড় থেকেই বেশির ভাগ রোগী জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হয়।প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর বলছে নিবিড় ভাবে টিকাদান করা গেলে কুকুর ও বিড়ালের শরীর থেকে যে জলাতঙ্ক ভাইরাস ছড়াই তা আর ছরাবে না। আর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে পুরোপরি জলাতঙ্ক দূরীভুত করতে কুকুর, বিড়ালের সাথে মানুষের টিকাদানও সমানতালে চালাতে হবে।
প্রতিদিনি সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত
কুষ্টিয়া পৌরসভা ও সদর উপজেলায়
এলাকার পালিত ও বেওয়ারিশ কুকুরকে দেওয়া হচ্ছে টিকা। ৩৮ টি টিম কাজ করছে পুরো পৌরসভা ও সদর উপজেলায়
এলাকায়। বুধবার থেকে আগামী ৫ দিন এই টিকা দান কর্মসূচী চলবে।
জলাতঙ্ক ভাইরাস প্রতিরোধের এই প্রকল্পের পরিচালক বলছেন, এখন পর্যন্ত ৩৬ টি জেলায় এই কর্মসূচী সম্পন্ন করা হয়েছে। ২০২২ সালের মধ্যে পর্যায় ক্রমে প্রতিটি জেলায় তিন ধাপে এই টিকা দেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, শুধুমাত্র কুকুর নয় বিড়াল, শিয়াল, বেজী ও বাদর থেকেও জলাতঙ্ক রোগের ভাইরাস ছড়ায়।
কুষ্টিয়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সিদ্দিকুর রহমান বলছেন, নিবিড়ভাবে এই টিকা দেওয়া গেলে কুকুর, বিড়াল থেকে জলাতঙ্ক রোগের ভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা কমবে। টিকা প্রদানের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশ থেকে পোলিও রোগ দুর করেছি। অতএব নিবিড়ভাবে কুকুর ও বিড়ালকে টিকা প্রদান করা হলে, ওদের শরীরে জলাতঙ্ক রোগের ভাইরাস আর সংক্রমন করতে পারবে না।তিনি আরো বলেন, কুকুর টিকা প্রদান শেষে রং করে দেওয়া হচ্ছে। শহরে রং করা কুকুর গুলোকে দেখলেই বুঝবেন এ গুলো টিকা দেওয়া হয়েছে। পাঁচ দিন পর থেকে রং ছারা কুকুর দেখা যাবে না।
কুষ্টিয়া জেলার সিভিল সার্জন ডাঃ রওশন আরা বেগম বলেন , কুকুর, বিড়ালের টিকাদানের পাশাপাশি মানুষের টিকা দান ও সচেতনতা বৃদ্ধি করলে জলাতঙ্ক সমূলে নির্মূল করা সম্ভব। তিনি আরো বলেন, কুকুরের কামড় বা আচড় থেকেই মুলত জলাতঙ্ক রোগের প্রাদুর্ভাব হয় বেশী।
জলাতঙ্ক রোগের চিকিত্সা সম্পূর্ণ ফ্রি থাকলেও মানুষ অজ্ঞতার কারনে চিকিত্সা করেন না। এই কারনেই জলাতঙ্ক রোগের প্রাদুর্ভাব বেশী হয়। কুষ্টিয়া জেলায় প্রতিদিন প্রায় ৩৫/৪০ জন কুকুরে কাঁমড়ানো রোগী কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতলে চিকিত্সা
নিয়ে থাকেন। অতএব এই প্রকল্পের আওতায় কুকুর ও বিড়ালকে প্রতিশোধক দিলে জলাতঙ্ক রোগের ভাইরাসের সংক্রম ঠেকানো সম্ভব। পাশাপাশি মানুষ সচেতন হলে ও যথা সময়ে চিকিত্সা গ্রহন করলে জলাতঙ্ক রোগ জিরো লেবেনে নিয়ে আসা সম্ভব।( নিউজ সম্পাদনায় হাফিজা আক্তার)









