বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাঃ শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলার মানুষ আর কোন ফ্যাবিবাদ ও আধিপত্যবাদকে সহ্য করবেনা। আমরা কোন আধিপত্যবাদীদের মানবোও না। দেশের মানুষ দুর্নীতিগ্রস্ত কোন সরকারকে আর দেখতে চায় না।
তিনি শনিবার দুপুরে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় এসব কথা বলেন।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের ১১ দলীয় জোট সমর্থিত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোঃ তাহেরের সভাপতিত্বে চৌদ্দগ্রাম এইচ জে পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠে আয়োজিত জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পাটির (এনসিপি) আহবায়ক মোঃ নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম ও মাওলানা আবদুল হালিম, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মোঃ জাহিদুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী সিগবাতুল্লাহ সিগবা, কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক ও ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম।
জামায়াত আমীর বলেন, আপনারা যদি আমাদের ভোট দেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে মন্ত্রী পরিষদের সিনিয়র সদস্য হিসেবে আপনারা দেখতে পাবেন। এই সুযোগ চৌদ্দগ্রামবাসী আপনারা কাজে লাগাবেন কিনা সেটা ভেবে দেখবেন।
তিনি আরো বলেন, ‘বিগত সময়ে শত অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করেও আমরা দেশ ছাড়িনি। আমরা দেশেই ছিলাম, আমরা আছি এবং আমরা থাকবো ইনশাআল্লাহ। আমরা মজলুম ছিলাম, মজলুমে দুঃখ আমরা বুঝি। এ জন্য আমরা কখনো জালিম হবো না।’
প্রতিদ্বন্দী একটি দলের নেতা-কর্মীদের দ্বারায় ১১ দলীয় সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণকারী নারীদের বিভিন্নভাবে নির্যাতন ও হেনস্তার প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আর যদি কোনো মা-বোনের গায়ে হাত দেওয়া হয়, তাহলে আমরা তাদের ছেড়ে কথা বলবো না। এমন ঘটনা যেখানেই ঘটুক না কেন, নারীদের সম্মান ও অধিকার রক্ষায় সেখানেই দেশপ্রেমিক সাহসী যুবকদেরকে নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিহত করতে হবে, যেভাবে জুলাইয়ের আন্দোলনে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করা হয়েছিল।’
মা-বোনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মা-বোনেরা কোন জুজুর ভয় পাবেন না। কোনো ভয়-ভীতিতে আপনারা ক্ষান্ত হবেন না। কারণ আপনারা সেই মা যারা আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদ আর ওসমান হাদিদের জন্ম দিয়েছেন। যারা আপনাদের ভয় দেখায় আপনারা তাদের রুখে দিন। বলুন ভোট আমি দিতে যাবো, ন্যায়-ইনসাফের পক্ষে দেবো, পারলে ঠেকাও। আপনারা ন্যায়ের পক্ষে ভোট দিবেন। জামায়াতসহ ১১দলীয় ক্ষমতায় এলেই আপনারা নিরাপদে থাকবেন।’
প্রতিদ্বন্ধি দলের নেতৃবৃন্দকে উদ্দেশ্য করে জামায়াত আমির আরো বলেন, আপনারা একদিকে বলছেন মায়েদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেবেন। আরেক দিকে আপনারা সেই মায়ের গায়েই দিচ্ছেন হাত। আপনারা মায়েদের কিভাবে দেখবেন এখনই বোঝা যাচ্ছে। ভোটের আগের আবহ দেখলে বুঝা যায় কেউ নির্বাচিত হলে আগামীটা কেমন হবে। মনে রাখবেন, সেদিন যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের মেয়েদের গায়ে হাত দেয়া জাতি ক্ষমা করেনি, গর্জে উঠেছিল, ফুঁসে উঠেছিল, আজকেও মেয়েদের গায়ে হাত দিচ্ছেন, নিজেদের কবর রচনা করবেন। তিনি বলেন, দেশবাসী রাজনীতির পুরনো বন্দোবস্ত দেখেছে, ৫৪ বছর দেখেছে। সে বন্দোবস্তে ফ্যাসিবাদ তৈরি হয়েছে। মানুষের অধিকার হরণ করেছে। দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে। চাঁদাবাজিতে জনগণকে অতিষ্ঠ করেছে। সে রাজনীতি আমার মা-বোনের ইজ্জত হরণ করেছে। ওই রাজনীতি আবার ফিরে আসুক আমরা চাই না।
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, যুবকরা আমরা তোমাদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দেবো না। তোমরা বেকার ভাতার জন্য কোনো দাবিও করনি। বেকার ভাতা দিয়ে তোমাদেরকে অপমানিত করতে চাই না। তোমাদের হাতগুলোকে আমরা দক্ষ কারিগরের হাত হিসেবে গড়ে তুলব। প্রত্যেকের হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দেবো। সেদিন প্রতিটি যুবক গর্বের সাথে বলবে যে আমিই বাংলাদেশ। আমরা বাংলাদেশের নেতৃত্ব যুবকদের হাতে তুলে দিতে চাই। আমাদের ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে ৬২ শতাংশ প্রার্থী হচ্ছে যুবক। আজকে আমি এই বার্তা দিচ্ছি, আগামীর দেশ হবে যুবকদের বাংলাদেশ।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মুহাম্মদ বেলাল হোসাইনের সঞ্চালনায় জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্যে রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসের শূরা সদস্য ও কুমিল্লা-নোয়াখালী অঞ্চলের টিম সদস্য আবদুস সাত্তার, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির এডভোকেট মুহাম্মদ শাহজাহান, কুমিল্লা-১০ আসনের ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য প্রার্থী মোঃ ইয়াছিন আরাফাত, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী আতিকুর রহমান, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোতাসির বিন সাকির, কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারী মাহবুবুর রহমান, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমির মাহফুজুর রহমান, সাবেক আমির ভিপি শাহাবুদ্দিন, পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা মোহাম্মদ ইব্রাহিম, জাতীয় নাগরিক শক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহবায়ক আবু সুফিয়ান, উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা শাহজালাল, চৌদ্দগ্রাম নজমিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ একেএম সামছুদ্দিন, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটির উপজেলা সেক্রেটারী অনিল চন্দনাথ দেবনাথ, শহীদ সাহাবুদ্দিনের পিতা মাওলানা জয়নাল আবেদীন, শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা নুরুজ্জামান খোকন, এমদাদুল হক শাহী, জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মজিবুর রহমান, কালিকাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ রুহুল আমিন, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী মোঃ নুরুল ইসলাম মোল্লা প্রমুখ।
Please follow and like us:









