বরিশাল প্রতিনিধিঃ- ৩০ জুলাই সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপি নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার বুধবার বেলা সাড়ে এগারোটায় তার নির্বাচনী ইস্তেহার ঘোষণা করেছেন। ২৮ দফা নির্বাচনী ইস্তেহারে তিনি বলেন, নগরবাসী তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করলে আমি বরিশালের সর্বস্তরের জনগনকে সাথে নিয়ে সন্ত্রাস ও মাদক মুক্ত করবো। এছাড়া নগরীর নদী-খাল সচল রেখে উন্নয়ন সচল, শহর রক্ষাবাঁধ নির্মান দ্রুত সম্পন্ন, নগরীর খালগুলো দখলদারদের কাছ থেকে উদ্ধার, নগরীতে শিশু ও নবীনদের জন্য বিনোদন পার্ক স্থাপন, মুক্তিযোদ্ধা এবং ইমামদের বিশেষ সুবিধা প্রদানের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে নগরী পরিচালনা করবো। জেলা ও মহানগর বিএনপি দলীয় কার্যালয়ে ধানের শীষের প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার নিজেই ইস্তেহার পাঠ করেন। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিন, কেন্দ্রীয় বিএনপি সদস্য আবুল হোসেন খান, জেলা বিএনপি সভাপতি আলহাজ্ব এবায়েদুল হক চাঁন প্রমুখ।
জাপা প্রার্থীর গণসংযোগ:- সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের মেয়র প্রার্থী বিশিষ্ট শিল্পপতি ও শিক্ষানুরাগী ইকবাল হোসেন তাপস প্রচার-প্রচারনার নবমদিনে বুধবার দুপুরে গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, আমি বরিশাল নগরবাসীকে কোন ধরনের মিথ্যা ফুলঝুড়ির আশ্বাস দিয়ে তাদের সাথে প্রতরনা করতে চাইনা। ৩০ জুলাইয়েল নির্বাচনে নগরবাসী আমাকে তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে আমি প্রথমেই নগরভবনকে সেবক ভবনে রূপান্তরিত করবো। নগরীর সদররোড, জেনারেল হাসপাতাল সড়ক, অমৃত লাল দে কলেজ, নতুন বাজারসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জাপা প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপসের গণসংযোগে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তার নির্বাচনের প্রধান সমন্বয়ক ও পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক মহসিন-উল ইসলাম হাবুলসহ দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা।
মেয়র ও কাউন্সিলর পদে তিন ভাই-বোন:- প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারনায় বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনী মাঠ এখন সরগরম। যে যার মতো করে ভোটারদের কাছে গিয়ে দিচ্ছেন নানান প্রতিশ্রুতি। চাচ্ছেন নিজের ও পছন্দের মেয়র প্রার্থীর জন্য ভোট। তবে এরইমধ্যে চারজন কাউন্সিলর প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় বিজয়ীও হয়ে গেছেন। এরমধ্যে তিনজন সাধারণ ও একজন সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। সংরক্ষিত ৪ নম্বর (১০, ১১ ও ১২) ওয়ার্ডে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় বিজয়ী আয়শা তৌহিদ লুনা তার পিতার পরিবার থেকে এবারের সিটি নির্বাচনে একাই অংশগ্রহন করেননি। তার বয়সের দুই বছরের বড় ভাই বশীর আহমেদ ঝুনু জাপার বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হরিণ প্রতীক নিয়ে মেয়র পদে এবং ছোট ভাই মারুফ আহমেদ জিয়া ঠেলাগাড়ি প্রতীক নিয়ে ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। তাদের সবার ছোট বোন তাসমিমা আহম্মেদ সংরক্ষিত ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্ধিতা করার জন্য নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে তিনি তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায় আয়শা তৌহিদ লুনা বিনাপ্রতিদ্বন্ধিায় বিজয়ী হন। নগরীর ১১ নম্বর ওয়ার্ডের শহীদ আলতাফ স্কুল সড়কের বাসিন্দা আহমেদ আলী ও ফিরোজা বেগম দম্পতির সন্তান তারা। তিন ভাই-বোন একই বাড়িতে থাকলেও রাজনৈতিক জীবনে আয়শা তৌহিদ লুনা মহানগর বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও মারুফ আহমেদ জিয়া বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। বশীর আহমেদ ঝুনু জাতীয় পার্টির (জাপা এরশাদ) সদর উপজেলার সভাপতি ও জেলা কমিটির যুগ্ম আহবায়ক। এসব প্রার্থীদের মতে, জনকল্যানে নিজেদের নিয়োজিত রেখে নিজের পছন্দ মতো যেকোন দলের রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে। আবার নির্বাচনে অংশগ্রহন করার অধিকারও রয়েছে সবার। জয়-পরাজয়ের কথা মেনেই তারা নির্বাচনে অংশগ্রহন করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, বিএনপির মজিবর রহমান সরোয়ার, জাপা মনোনীত ইকবাল হোসেন তাপস ও জাপার বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী বশীর আহমেদ ঝুনুর পক্ষে প্রচার প্রচারনা করছেন যারা। সাদিক আব্দুল্লাহর নৌকা মার্কার পক্ষে কোমর বেঁধে মাঠে কাজ করছেন সৈয়দ দুলাল, তার ভাই বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে নগরীতে গণসংযোগ করছেন। জাপার প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপসের এক ভাই জেলা যুবদলের সভাপতি পারভেজ আকন বিপ্লব বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে প্রচারনা করছেন, অপর ভাই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আসাদুজ্জামান আসাদ নৌকার পক্ষে। জাপার বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী বশীর আহমেদ ঝুনুর ভাই কাউন্সিলর প্রার্থী মারুফ আহমেদ জিয়া ও বোন আয়শা তৌহিদ লুনা বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে।









