সাইফুল আলম সুমন, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:- বাড়ি ভর্তি আত্মীয় স্বজন। সাজানো গোছানো পরিবেশ। বড় বোন শাহনাজ আক্তার রত্নার বিয়ের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানাদি শেষ। রাত তখন দেড়টা। ১২ ঘন্টা পর পাঁচশতাধিক আমন্ত্রিত অতিথি আপ্যায়নের আয়োজনও প্রায় শেষের দিকে। ঠিক ওই মুহুর্তেই ছোট ভাই শামসুল আলম (২২) ল্যান্ড ফ্যানে বিদ্যুতায়িত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। তার চলে যাওয়ার সাথে সাথে ওই পরিবারের বিয়ে উৎসবের সকল আনুষ্ঠানিকতাও ম্লান হয়ে গেছে। এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
বেদনাদায়ক এ ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টায় গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর শহরের সাবেক মন্ত্রী ও স্থানীয় সাংসদ অ্যাডভোকেট রহমত আলী (মন্ত্রী পাড়ার) মোয়াজ্জেম হোসেনের বাড়িতে। মোয়াজ্জেম হোসেনের একমাত্র ছেলে নিহত শাসুল আলম। সে এ বছর শ্রীপুরের বরমী কলেজ থেকে ব্যবস্থাপনা সম্মান বিষয়ে চূড়ান্ত পর্ব পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। আগামীকাল শনিবার গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম সরকারী কলেজে তার ভাইভা পরীক্ষা হওয়ার কথা রয়েছে।
বড় বোন শাহনাজ আক্তার রতœা জানান, গায়ে হলুদের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি স্টেজেই বসেছিলেন। তার একমাত্র ছোট ভাই শামসুল আলম অতিথি আপ্যায়নের জন্য খাবার তৈরীর প্রণালী দেখাশোনা করছিলেন। এক পর্যায়ে গায়ে হলুদের স্টেজের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ল্যান্ড ফ্যানের সাথে ধাক্কা লেগে বিদ্যুতায়িত হয়ে সে ফ্যানসহ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
নিহতের বড় ভগ্নিপতি আরিফুজ্জামান পলাশ বলেন, এসময় বোনসহ অন্যরা তাকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর মৃত ঘোষণা করেন। নিহত শামসুল আলম তার বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে। তার বড় দুইজন এবং ছোট এক বোন রয়েছে। শাহনাজ আক্তার রতœা তার দ্বিতীয় বোন। শাহনাজ আক্তার রতœা শ্রীপুর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক। শুক্রবার তার বিয়ের দিন ধার্য্য ছিল। আত্মীয়স্বজন, শুভাকাঙ্খীদের আমন্ত্রন জানানোসহ প্রায় সকল কার্যক্রম শেষ। শুক্রবার দুপুরে অতিথিদের খানাপিনার জন্য রান্নার আয়োজন শুরুর দিকেই সকল আনুষ্ঠানিকতা সাথে নিয়ে চির বিদায় নিল সামছুল আলম। দুপুর আড়াইটায় নিজ বাড়িতে নামাজে জানাযা শেসে পারিবারিক গোরস্থানে নিহত শামসুল আলমকে দাফন করা হবে।
প্রসঙ্গত, ল্যান্ডফ্যানসহ সাজসজ্জার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল স্থানীয় একটি ডেকোরেটর প্রতিষ্ঠানকে।









